ডেস্ক রিপোর্টার,৩ ফেব্রুয়ারি।।
      সুবল ভৌমিক। রাজ্য রাজনীতির দল বদলু নেতাদের অন্যতম। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বেশি দিন ঘর সংসার করতে পারেন নি। দল পরিবর্তন সুবল ভৌমিকের রাজনৈতিক জীবনের ঐতিহ্য হিসেবে পরিণত হয়েছে। শিবির বদলানোর ক্ষেত্রে তিনি মাহির। সুবল বহু বার তা প্রমাণ করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় রাজনীতির মাঠে পরিশ্রমী খেলোয়াড় সুবল কখনো এক দলে বেশি দিন থাকতে পারেন নি।
        ভোটের মুখে সুবল ভৌমিক  তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে।বৃহস্পতিবার বিজেপি দেখলো সুবল ম্যাজিক। ২৩শ ভোটারকে তিনি যোগদান করিয়েছেন বিজেপিতে(!)তাদের মধ্যে ১৯জন বিভিন্ন স্তরের নেতা।
       বিজেপির সদর কার্যালয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ১৯ জন বিভিন্ন স্তরের নেতা যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। তারা সবাই সুবল অনুগামী। এরা তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগদান করেছে। সুবল ভৌমিক যে নৌকায় পা রাখেন,তারাও সেখানেই আস্তানা গারেন।
                রাজনীতিতে কথিত আছে, এই সমস্ত লোকজনই সুবল ভৌমিকের পুঁজি ।তাদেরকে দেখিয়েই সুবল তার রাজনৈতিক বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। এবং দীর্ঘায়িত করছেন নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। রাজনৈতিক ভাবে ব্যাখ্যা করলে, এদিনের যোগদান সভা দিয়ে রাজনৈতিক মাইলেজ পাবে বিজেপি। বলা চলে, সুবল ভৌমিকের মাধ্যমে ভোটের মুখে তৃণমূল কংগ্রেসকে ধাক্কা দিয়েছে বিজেপি।
             সুবল ভৌমিক বিজেপিতে থাকাকালীন তারও ছিলো বিজেপিতেই।সুবল তাদেরকে পুজি করেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন।ধরেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের স্টিয়ারিং। এরপর সুবল পুরানো তৃণমূলীদের সরিয়ে নিজের কাছে থাকা পাঁচ আনা, আট আনা নেতাদের দিয়ে সাজিয়ে ফেলেছিলেন প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য কমিটি।এবং এই কমিটি মমতা – অভিষেকের স্বপ্নকে ত্রিপুরার রাজপথে নিলাম করে দেন সুবল।বলছেন রাজনীতিকরা।
                গত পুর ভোটের পর সুবল ভৌমিকের গতি  প্রক্রিয়া বুঝতে পেরে তৃণমূল কংগ্রেস তাকে দলের সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলো।এরপর তিনি আবার বিশ্বস্ত রাজনৈতিক  আস্তানা খুঁজতে শুরু করেন। শেষে বিভিন্ন দরজায় ঘুরে ফের পেয়ে যান বিজেপিকে। দিল্লীতে গিয়ে যোগ দেন ভাজপা শিবিরে।
                দিল্লি থেকে ফিরে এসে সুবল ভৌমিক বিজেপি নেতৃত্বকে তার শক্তি প্রদর্শন করলেন। মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়ে তার হাতে থাকা পুঁজি লগ্নি করেন পদ্ম শিবিরে।তাও আবার সাংবাদিক বৈঠক করে।
রাজনীতিকরা বলছেন, সুবল ভৌমিকের এই রাজনীতি একেবারেই হাস্যকর। তার ইনভেস্ট করা পুঁজি দিয়ে তিনি বিজেপিতে খুব বেশি দূর এগুতে পারবে না। তাছাড়া সুবল ভৌমিক মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সভাপতিকে অঙ্কের ভুল হিসেব দিলেন না তো? প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *