
ডেস্ক রিপোর্টার,৪ ফেব্রুয়ারী।।
বিধায়ক দিলীপ দাস।তিনি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বড়জলা কেন্দ্রের বিজেপির প্রার্থী। ভোট জয়ের জন্য প্রচার শুরু করেছেন বাড়ি বাড়ি। নির্বাচনে তিনি জয়ী হবেন না পরাজিত হবেন,তার রায় দেবেন গণ দেবতা।
বিজেপির বিধায়ক চিকিৎসাক দিলীপ দাস গত পাঁচ বছর কি করেছেন? তার খতিয়ান অবশ্যই আছে ডাক্তার বাবুর কাছে। জানেন গত এলাকার মানুষ।
শাসক দলীয় বিধায়ক দিলীপ দাস গত পাঁচ বছর কি করেছেন।? প্রশ্ন উঠছে গোটা বিধানসভা এলাকায়।
সামাজিক মাধ্যমে বিধায়ক দিলীপ দাস নিগোসিয়েশন নিয়েও নানারকম ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, নিগোসিয়েশন মানে দর কষাকষি, মধ্যস্থতা করা। নিগোসিয়েশন হয় সর্বক্ষেত্রে।নিগোসিয়েশন একটা শিল্প কলা।
নিগোসিয়েশন অপরাধ নয়।নিগোসিয়েশন হয় রাজনীতিতে,বিদেশ নীতিতে।নিগোসিয়েশন হয় সরকার ভাঙ্গা – গড়ায়।
গত পাঁচ বছর বিজেপির বিধায়ক দিলীপ দাস বড়জলাতে কি করেছেন। মানুষের কথায়,তিনি ঠিকা নিয়েছিলেন মানুষকে নিগোসিয়েশনের সারবর্ত্তা বুঝানোর জন্য।

বিধায়ক দিলীপ দাস বিভিন্ন সময়ে তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিগোসিয়েশিন সংক্রান্ত পোস্ট করে মানুষের কাছে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। ছি: ছি:।
বিধায়ক দিলীপ দাস অনুসন্ধান করেন,কিভাবে পূর্ত দপ্তরের ঠিকাদাররা কাজের নির্দিষ্ট রেটের চেয়ে ২০ – ২৫ শতাংশ কম রেটে কাজ করেন।এবং মোটা অঙ্কের লাভ করেন? এই প্রতিবেদনে সোশ্যাল মিডিয়ায় করা দিলীপ দাসের সেই ঐতিহাসিক পোস্ট জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
অদ্ভুত কাণ্ড। বিধায়ক দিলীপ দাস নিজের তোলার অঙ্ক বাড়ানোর জন্যই ঠিকাদারের লাভের উৎস জানার চেস্টা করেন। যাতে করা যায় দর কষাকষি।
বড়জলা এলাকার মানুষ বলছে,দিলীপ দাস নিজেই নিগোসিয়েশিন বাণিজ্যের পিন কিং। তাই মানুষের চোখে গোলক ধাঁধা লাগানোর জন্য তিনি নিগোসিয়েশন বানিজ্য নিয়ে সাওয়াল করেছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।
রাজ্য পুলিশের তথ্য বলেছে, গত পাঁচ বছরে রাজধানীর অপরাধের নতুন ডাইমেনশন এসেছে। পরিবর্তন হয়েছে অপরাধের আতুর ঘরের অবস্থানের।এখন অধিকাংশ অপরাধই বড়জলা বিধানসভা মুখী। নেপথ্যে আছেন খোদ জন প্রতিনিধি(!)

বোমাবাজি, তোলা বাজি, অপহরন, খুন,বুলেট নিক্ষেপ সবই ঘটছে বড়জলা কেন্দ্রে । আবার এলাকার দাগি অপরাধীদের সঙ্গে উঠাবসা করছেন দিলীপ দাস। তাহলে তো বলতেই হয়,তিনি হলেন নিগোসিয়েশন চক্রের ক্রিমিনালদের গড ফাদার। দেখুন এলাকার দাগি অপরাধী রাজু বর্মন,বিমান দাস,রাকেশ বর্মনদের সঙ্গে দিলীপ দাসের সম্পর্ক।ছবি দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।

সম্প্রতি দিলীপ দাস বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। দিলীপ দাসের মনোনয়ন পত্র জমা করার মিছিলে ছিলো এলাকার দাগি অপরাধীরা। রাজু বর্মন,রাকেশ বর্মন,সন্তোষ দাস সহ বাদবাকিরা।এই ছবিও দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।

গত কয়েকমাস আগে সন্ধ্যা রাতে নতুন নগর একটি দাবাতে গুলি বৃষ্টি হয়।তাতে গুলি বিদ্ধ হয় দুই জন।তাদের একজন হরিপদ দাস ও অপর জন সঞ্জয় দাস।.
এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিল রাজু বর্মন ও বিমান দাস।গত কয়েকদিন আগে বিমান দাস অস্ত্র সহ গ্রেপ্তার হয়েছিলো ঊষা বাজারেই। আর রাজু পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল।
এই মামলার পুলিশ গ্রেফতার করেছিল সন্তোষ দাসকে।সেই পরবর্তী সময়ে আদালত থেকে পেয়েছিল ছাড়া।কিন্তু সন্তোষ দাসকে মঙ্গলবার রাতে ঊষা বাজার ভারত রত্ন সংঘের প্রাঙ্গনে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয় তার শরীরে লাগে বুলেটের আঘাত।


এই গুলি কাণ্ডের পেছনেও এলাকার দাগি সমাজদ্রোহী রাজু বর্মনের ভাই রাকেশ বর্মণ।কিন্তু মাফিয়াদের গড ফাদার দিলীপ দাসের অঙ্গুলি হেলনে পর্দার আড়ালে চলে যায় অপরাধীরা। অবাক করার মতো বিষয় নতুন নগর গুলি কাণ্ডে আহত হরিপদ দাসকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে ।কি হাস্যকর নাটক ভদ্রবেশী মাফিয়া ডন তথা বিধায়ক দিলীপ দাসের নির্দেশে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশও তাদের খাকি উর্দিকে অল্প টাকার বিনিময়ে লিনাম করে দিলো।

এখন এই ভদ্র বেশি বিধায়ক দিলীপ দাস মানুষের দরজায় দরজায় যাচ্ছেন ভোটের জন্য।

কিন্তু তাকে কি বড়জলার মানুষ ভোট দেবে? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে আগামী ২রা মার্চই।
