ডেস্ক রিপোর্টার, ৫ফেব্রুয়ারি।।
      ঊনকোটিতে বিজেপির সংসারে আগুন।টিংকু রায় ও ভগবান দাসের মধ্যে সংঘাত শুরু। এর প্রভাব পড়েছে নাড্ডা সভায়।নাড্ডার সভা ফ্লপ করতে
   ভগবানের ব্যয় ১৫ লক্ষ টাকা। এই কারণে ভগবানকে  গাল মন্দ দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। বলেছে বিজেপির কর্মী – সমর্থকরা।

শুক্রবার নির্বাচনী প্রচারে এসেছিলেন বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা।তিনি গোমতী জেলার অমর পুর ও ঊনকোটির কুমারঘাটে দুইটি জনসভা করেছিলেন।কুমারঘাটে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল স্থানীয় পূর্ত দপ্তরের মাঠে। জেপি নাড্ডার সভায় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।সঙ্গে জেলার চার বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীরা। কৈলাসহর থেকে এসেছিলেন মবস্বর আলী। চণ্ডীপূর টিংকু রায়, ফটিকরায় থেকে সুধাংশু দাস এবং পাবিয়াছড়া থেকে ভগবান দাস।
            বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতির জনসভায় হাল হকিকত এরকম কথা ছিলো না তো।তাও আবার ভোটের মুখে। জেপি নাড্ডার সভার শেষে তদন্ত শুরু করে বিজেপির থেকে ট্যাঙ্ক। আর তাতেই নাকি কেচো  খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসে।
  বিজেপির থিঙ্ক ট্যাঙ্ক অনুসন্ধান করে জানতে পারেন গোটা ঘটনার পেছনে খল নায়ক রাজ্যের মন্ত্রী তথা পাবিয়াছড়া কেন্দ্রের প্রার্থী কাঠ কাঠ মিস্ত্রি ভগবান দাস।
  পড়াশুনা অষ্টম মান উত্তীর্ণ মন্ত্রী ভগবান দাস রাজনীতি ভালো শিখেছেন। কাঠ মিস্ত্রির ধারালো করাত দিয়ে তিনি কেটে দিয়েছেন বাদবাকি তিন কেন্দ্রের প্রার্থীদের।তারমধ্যে অন্যতম চণ্ডীপুরের প্রার্থী তথা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক টিংকু রায়কে। কেন?
  জেপি নাড্ডার জনসভার দায়িত্বে ছিলেন কাঠ মিস্ত্রি মন্ত্রী ভগবান দাস। তিনি বাদবাকি প্রার্থীদের জন সম্মুখে নিশ্চিহ্ন করার জন্য গোটা জনসভা স্থলে তাদের কোন ফ্ল্যাগ ফেস্টুন লাগায় নি। জনসভা স্থলে ছিলো সর্ব ভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা, মুখ্যমন্ত্রী ডা: মানিক সাহা, রাজ্য সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য ও ভগবান দাসের ছবিতে ছয়লাপ।এখানে টিংকু রায়, সুধাংশু দাস ও মবশ্বর আলীর কোন ছবি ছিল না। বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রেও ভগবান দাস  সঙ্গেই যথেষ্ট কৃপণতার সঙ্গেই রাজনীতির চাল দিয়েছেন । শুধুমাত্র কৈলাসহরের প্রার্থী মবস্বর আলীকে পাঁচ মিনিট বক্তব্য রাখার সুযোগ দিয়েছেন। বাদবাকি দুই প্রার্থী টিংকু রায় ও সুধাংশু দাসকে বক্তব্য রাখারই কোন সুযোগই দেননি। বলছে খোদ বিজেপির কর্মীরা।
         বিজেপির ঘরোয়া রাজনীতির খবর, এই মুহুর্তে ঊনকোটি জেলায় মন্ত্রী ভগবান দাসের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন টিংকু রায়। তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক। চণ্ডীপুরের প্রার্থী।যদি টিংকু নির্বাচনে জয়ী হন,তাহলে কপাল পুরবে ভগবান দাসের।বিজেপি সরকার গঠন করলে মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন টিংকু।তিনি মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠও বটে।এক্ষেত্রে কপালে ভাঁজ পড়বে কাঠ মিস্ত্রি মন্ত্রী ভগবান দাসের। ভাজপা শিবিরের  ঘরোয়া রাজনীতির এই জটিল অঙ্ককে সহজ করতে গেলে টিংকুকে যেকোনো মূল্যে রাখতে হবে ফোকাসের বাইরে।এবং হারাতে হবে নির্বাচনে।
এই কারণেই চন্ডীপুর থেকে যেন বেশি লোকজন কুমারঘাটের জনসভায় না আসে তার জন্য অতিরিক্ত খাটা খাটুনি করেন মন্ত্রী ভগবান। একই সঙ্গে ভগবানের অদৃশ্য হাত পড়েছে ফটিক রায় ও কৈলাসহরে। সংশ্লিষ্ট বিধানসভা গুলি থেকে যেন বেশি লোকজন কুমারঘাটে না আসতে পারে তার সমস্ত ব্যবস্থা করেছেন ভগবান।তার জন্য তিনি নাকি খরচ করেছেন ১৫ লক্ষ্ টাকা। তারমধ্যে ১০লক্ষ্ টাকা খরচ করেছেন চণ্ডীপুর বিধানসভায়। অর্থাৎ ভগবান দাস দলীয় নেতৃত্বকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন জনসভা স্থলে যে সমস্ত লোকজন এসেছে তারা প্রত্যেকেই তার অনুগামী। বাদবাকি  প্রার্থীরা জনসভায় ব্যর্থ হয়েছেন লোকজন টানতে।
জেপি নাড্ডার জনসভায় লোকজন কম হওয়াতে টনক নড়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বে তারা সঙ্গে সঙ্গেই শুরু করে ময়নাতদন্ত। তখন বেরিয়ে এসে রহস্য।পুরো ঘটনা জানার পর খোদ মুখ্যমন্ত্রী সরব হন। এবং কড়া অনুশাসন সহ ভগবানকে গাল মন্দ করেন। এবার বেটাও পড়েছে সমস্যায়!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *