ডেস্ক রিপোর্টার, ৫ফেব্রুয়ারি।।
      জিতেন্দ্র চৌধুরী।তিনি রাজ্য সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক। বাম – কংগ্রেস জোটের মুখ্য নেতা। পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ। তিনি ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী।ছিলেন সাংসদ।এখন ২৩- র নির্বাচনে বিজেপি বিরোধী জোটের প্রধান মুখ।
       রাজ্য সিপিআইএমের প্রাক্তন সম্পাদক গৌতম দাসের মৃত্যুর পর মেলারমাঠের সম্পাদকের চেয়ারে বসেছিলেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। কমিউনিস্টরা বলছে,
        জিতেন্দ্র চৌধুরী রাজ্য সম্পাদকের
দায়িত্ব পেয়েই দলকে অক্সিজেন জোগান দিয়েছেন।
ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায় সিপিআইএম। পাহাড়- সমতলে  মজবুত হয় দলীয় সংগঠন। দলে স্রোত বাড়তে থাকে যুবাদের।
      জিতেন্দ্র চৌধুরী ১৯৯৩ সালে দক্ষিণ জেলার সাব্রুম মহকুমার মনু – বনকুল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে এসেছিলেন রাজ্য রাজনীতিতে।
    ৯৩ সালের বাম মন্ত্রী সভায় স্থান পেয়েছিলেন তিনি।এরপর ২০১৪ সাল পর্যন্ত ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য। তার হাতে ছিলো ক্রীড়া দপ্তর, বন দপ্তর, শিল্প ও বানিজ্য দপ্তর। ২০১৪ সালে জিতেন্দ্র চৌধুরীকে লোকসভায় পাঠিয়ে দিয়েছিলো সিপিআইএম।রাজ্যের পূর্ব আসন থেকে জয়ী হয়ে তিনি হয়েছিলেন সাংসদ।
      এই মুহুর্তে জিতেন্দ্র চৌধুরী কমিউনিস্টদের প্রধান মুখ।তাকে সামনে রেখেই বামেরা ঝাঁপিয়ে পড়েছে ভোট যুদ্ধে।তার প্রতি অগাধ বিশ্বাস কমিউনিস্টদের। তারা বিশ্বাস করেন, জিতেন্দ্র চৌধুরীর হাত ধরেই ২৩ র নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে বামফ্রন্ট।
           বামেরা টানা ২৫বছর ছিলো রাজ্যের ক্ষমতার অলিন্দে। ক্ষমতা হারানোর পর তারা হারে হারে টের পাচ্ছে। এখন খাদের কিনারা থেকে কমিউনিস্টদের টেনে তুলতে হলে জিতেন্দ্র-ই একমাত্র ভরসা।দল ক্ষমতায় আসলে তিনিই হবেন মুখ্যমন্ত্রী।ইতিমধ্যে কমিউনিস্টদের মুখে মুখে শুরু হয়েছে এই গুঞ্জন।স্বাভাবিক ভাবে গুরু দায়িত্ব বেড়ে গেলো জিতেন্দ্র চৌধুরীর।
           ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৩। এই পাঁচ বছর কংগ্রেস – টিইউজেএস জোট সরকারের জামানায় বিরোধী আসনে ছিলো বামেরা।তখন কমিউনিস্টদের হাতে ছিলো নৃপেণ চক্রবর্তী, দশরথ দেব, বৈদ্যনাথ মজুমদার, বদল চৌধুরী, সমর চৌধুরী খোগেন দাস,বিজন ধরের মতো দাপুটে নেতারা। তারা এখন অতীত। কমিউনিস্ট শিবিরের এই জাঁদরেল নেতারা কপিয়ে দিয়েছিলো তৎকালীন জোট সরকারকে।
    ২০১৮ থেকে ২০১৩।এই সময়েও  রাজ্যের  মসনদে বিজেপি- আই পিএফটি জোট সরকার। বামেদের হজম করতে হয়েছে তীব্র যন্ত্রনা। ২৩- র মহারণ তাদের ঘুরে দাড়ানোর একমাত্র হাতিয়ার।সফল হলে বসবে মসনদে। আর ব্যর্থ হলে ফের বসতে হবে বিরোধী আসনে। তাকিয়ে থাকতে হবে ২৮- র দিকে।
     বামেরা পেছন পানে তাকাতে নারাজ।কারণ তাদের হাতে রয়েছে জিতেন্দ্র চৌধুরীর মতো সর্বজন গ্রহণযোগ্য নেতা। জাতি – জনজাতি উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে তিনি জনপ্রিয়। তার সঙ্গে আছেন পবিত্র কর,সুধন দাসদের মতো নেতারা।আছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের ছায়া। সব মিলিয়ে জিতেন্দ্র চৌধুরীর নেতৃত্বে একটা শক্তিশালী দল হয়ে নির্বাচনী ময়দানে নেমেছে কমিউনিষ্টরা। তাই দেখছে ক্ষমতার স্বপ্ন।
            রাজনীতিকরা বলছেন,রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পাহাড় – সমতলে জিতেন্দ্র চৌধুরীর নেতৃত্বে বামেরা যদি ক্ষমতায় আসেন তাহলে তিনি পৌঁছে যাবেন নৃপেণ,দশরথ, বৈদ্যনাথদের মতো কিংবদন্তি জননেতাদের তালিকায়।কিংবদন্তি কমিউনিস্ট নেতাদের সঙ্গে উচ্চারণ হবে জিতেন্দ্র চৌধুরীর নামও। নিশ্চয় তিনি তা চাইবেন। আর এজন্যই জীতেন্দ্রর ম্যাজিকের দিকে তাকিয়ে আছে রাজ্যের কমিউনিষ্টরা। জিতেন্দ্র চৌধুরী  কমিউনিস্টদের কাঙ্খিত লক্ষে পৌঁছাতে পারবেন কিনা, তার জন্য অবশ্যই অপেক্ষা করতে হবে আগামী ২রা মার্চ পর্যন্ত।
    

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *