জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য বা স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র, শাহবাগ চত্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা বিস্ফোরণ বা ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

                             #সমীরণ রায়#
                          ________________

ঢাকা, ২৫ এপ্রিল।।
    দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় হামলার আশঙ্কা নিয়ে সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর। নিষিদ্ধঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যের সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার পর এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
গত ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের বিভিন্ন ইউনিটে এ–সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদের (যিনি সামী, আবু বক্কর ও আবু মোহাম্মদ নামেও পরিচিত) সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের কর্মকাণ্ড দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ।
পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য বা স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র, শাহবাগ চত্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা বিস্ফোরণ বা ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনাও তারা নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নজরদারি বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “আমাদের কনফিডেন্সিয়াল বিভাগ থেকে এ ব্যাপারে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। চিঠিটি প্রতিটি ইউনিটে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা কাজ করছে।”
পুলিশ সদর দপ্তরের আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, এ ধরনের সতর্কতা নিয়মিত সতর্কতামূলক ব্যবস্থারই অংশ। জাতীয় সংসদ ভবন, শাহবাগের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো বাড়তি প্রস্তুতি রয়েছে কি না, জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেছেন, এমন কোনো চিঠি তিনি এখনো পাননি।
তিনি বলেন, “এরকম কিছু যদি থাকে, তাহলে হয়তো কোনো ইন্টেলিজেন্সের ভিত্তিতে দিয়েছে। আমরা তো এমনিতেই সতর্ক আছি। আমরা বাড়তি নিরাপত্তা নেব, হয়তো তল্লাশি করব, আসলে কীভাবে বা কোথা থেকে এটা, একটু অ্যানালাইসিস করার পর আমাদের করতে হবে।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ‘দেশে জঙ্গি নেই’ বলে মন্তব্য করে আলোচিত হন। এমনকি ‘আওয়ামী লীগের সময় জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ছেলেপেলেদের মারছে, কীসের জঙ্গি’ এমন মন্তব্যও তিনি করেন।
সাজ্জাত আলী ডিএমপি কমিশনার থাকা অবস্থাতেই গত ৩১ জানুয়ারি জঙ্গি সন্দেহে রাজধানী জিয়া উদ্যান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আহসান জহির খান (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে। ওই ঘটনায় শেরেবাংলানগর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারের সূত্র ধরে পরবর্তীতে আরও চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেয় সিটিটিসি। এই মামলাতেই গেল ২ এপ্রিল নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ‘নব্য জেএমবির’ সঙ্গে জড়িত হবিগঞ্জ থেকে এক শিশুটিকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানায় ডিএমপি।
পরদিন ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, জিয়া উদ্যান থেকে গ্রেপ্তার আহসান জহির ও তার সহযোগীদের সঙ্গে হবিগঞ্জ থেকে হেফাজতে নেওয়া ওই শিশুর যোগাযোগ আছে। সে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে শিয়া মসজিদ, পুলিশের চেকপোস্ট ও ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা ও উসকানি দিত বলে দাবি করছে পুলিশ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *