ছোট কুঁড়েঘর বা চেম্বারের আদলে তৈরি এই ফ্রিজটির মূল উপাদান কাদা মাটি, গোবর এবং বিশেষ ধরণের শুকনো ঘাস— যাকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘ক্ষিপ্রা ঘাস’। মূলত বিশুদ্ধ বিজ্ঞানের বাষ্পীভবন পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে এটি কাজ করে।
ডেস্ক রিপোর্টার, ২২ জুন।।
তীব্র গরমে যখন আধুনিক রেফ্রিজারেটর ছাড়া শহুরে জীবন অচল, ঠিক তখনই রাজস্থানের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ ছাড়াই খাবার দাবার কনকনে ঠান্ডা ও টাটকা রাখছে এক শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য। স্থানীয় মানুষের কাছে এটি ‘দেশি ফ্রিজ’ নামে পরিচিত।এই প্রাকৃতিক রেফ্রিজারেটরটি চালাতে কোনো বিদ্যুৎ লাগে না । ফলে মাস শেষে মোটা অঙ্কের বিল আসারও কোনো ভয় নেই।
ছোট কুঁড়েঘর বা চেম্বারের আদলে তৈরি এই ফ্রিজটির মূল উপাদান কাদা মাটি, গোবর এবং বিশেষ ধরণের শুকনো ঘাস— যাকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘ক্ষিপ্রা ঘাস’। মূলত বিশুদ্ধ বিজ্ঞানের বাষ্পীভবন পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে এটি কাজ করে। মাটির দেওয়ালে থাকা সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে ভেতরের জল ধীরে ধীরে বাষ্পীভূত হয়, যা ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের চেয়ে প্রায় ৮ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। আর ক্ষিপ্রা ঘাসের আস্তরণটি বাইরের তীব্র রোদ থেকে ভেতরের অংশকে সুরক্ষিত রাখতে অপরিবাহী হিসেবে কাজ করে।
এই প্রাকৃতিক ফ্রিজে দুধ, দই থেকে শুরু করে টাটকা সবজিও দীর্ঘক্ষণ ভালো থাকে।আধুনিক রেফ্রিজারেটরের ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের বিপরীতে এই শতবর্ষী দেশি ফ্রিজ সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী,যা বর্তমান যুগেও টেকসই জীবনযাত্রার এক অনন্য নিদর্শন।

