ডেস্ক রিপোর্টার,৮ অক্টোবর।।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মনিটারি পলিসি কমিটির সিদ্ধান্তের ধাক্কায় বৃহস্পতিবার সপ্তাহের মধ্যভাগেই রক্তাত হল ভারতীয় শেয়ার বাজার। চার বছর পর এক ধাক্কায় আরবিআই রেপো রেট বাড়িয়ে দেওয়ায় একপ্রকার ধস নামল সেনসেক্স ও নিফটিতে। দিনের শেষে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স প্রায় ১০০০ পয়েন্টের বড় পতনের মুখ দেখেছে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক নিফটি ১.৫ শতাংশেরও বেশি নিচে নেমে এসেছে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ চার বছর পর দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া রেপো রেট বাড়নোর কথা ঘোষণা করেছে বুধবার। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতিকে বশে আনতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন আরবিআই গভর্নর। সুদের হার বাড়ায় বাজার থেকে উদ্বৃত্ত নগদ অর্থ তুলে নেওয়া সম্ভব হবে, যা মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
রেপো রেট বাড়ার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে চলেছে সাধারণ মানুষের পকেটে। বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিও এবার তাদের ঋণের ওপর সুদের হার বাড়াতে শুরু করবে। ফলে হোম লোন, কার লোন কিংবা পার্সোনাল লোন—সব ধরণের ঋণেরই ইএমআই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মধ্যবিত্তের কাঁধে চাপবে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা।

ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাড়ায় এবং বাজার থেকে তারল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন শেয়ার বাজারের বড় এবং মাঝারি বিনিয়োগকারীরা। একটি বড় অংশ শেয়ার বাজার থেকে তড়িঘড়ি নিজেদের মূলধন তুলে নিতে শুরু করেন। বাজার থেকে ব্যাপক পরিমাণে মূলধন উঠে যাওয়ায় বড়সড় বিক্রিবাট্টার মুখোমুখি হতে হয় দালাল স্ট্রিটকে।
বৃহস্পতিবারের এই পতনে সবথেকে বেশি ধাক্কা খেয়েছে ব্যাঙ্ক, অটোমোবাইল এবং রিয়েল এস্টেট খাতের শেয়ারগুলি। কারণ সুদের হার বাড়লে এই সমস্ত খাতে বিক্রি কমতে পারে—এমন আশঙ্কাই প্রবল হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রেপো রেট বাড়ানোর সিদ্ধান্তে মুদ্রাস্ফীতি কতটা নিয়ন্ত্রণে আসবে তা সময়ই বলবে, তবে আপাতত সুদের হার বৃদ্ধি এবং শেয়ার বাজারের এই রেকর্ড পতন সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারী—উভয় শিবিরের কপালেই চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিল।

