ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক ১৯৭৬ সালে মাত্র চারটি শাখা নিয়ে যাত্রা শুরু করে মূলত গ্রামীণ কৃষক, কারিগর ও সমাজের দুর্বল শ্রেণির মানুষের সেবার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে ব্যাংকটি রাজ্যের আটটি জেলায় ১৫০টি শাখা ও ১২টি আল্ট্রা স্মল ব্রাঞ্চ নিয়ে শক্তিশালী উপস্থিতি গড়ে তুলেছে। ১৯৭৬ সালে ৪.৫২ লক্ষ টাকার ব্যবসা থেকে বর্তমানে ব্যাংকের মোট ব্যবসা ১৫,৪২২ কোটিতে উন্নীত হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্টার, ২ মে।।
” ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক জনগণের ব্যাংক, উন্নয়নের অঙ্গীকার।”- বক্তা রাজ্যের গর্ব ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান সত্যেন্দ্র সিংহ। শনিবার আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের বার্ষিক সাংবাদিক বৈঠকে একথা বলেছেন তিনি।চেয়ারম্যান ছাড়াও গ্রামীণ ব্যাঙ্কের জেনারেল ম্যানেজার অনুপ কুমার সাহা,চিফ ম্যানেজার সৈলেশ ভি রঞ্জন সাংবাদিক বৈঠকে বক্তব্য রাখেন। মূলত তাঁরা প্রত্যেকেই ব্যাংকের সামগ্রিক সাফল্য, আর্থিক শক্তি, গ্রাহক পরিষেবা, ডিজিটাল উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক ১৯৭৬ সালে মাত্র চারটি শাখা নিয়ে যাত্রা শুরু করে মূলত গ্রামীণ কৃষক, কারিগর ও সমাজের দুর্বল শ্রেণির মানুষের সেবার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে ব্যাংকটি রাজ্যের আটটি জেলায় ১৫০টি শাখা ও ১২টি আল্ট্রা স্মল ব্রাঞ্চ নিয়ে শক্তিশালী উপস্থিতি গড়ে তুলেছে। ১৯৭৬ সালে ৪.৫২ লক্ষ টাকার ব্যবসা থেকে বর্তমানে ব্যাংকের মোট ব্যবসা ১৫,৪২২ কোটিতে উন্নীত হয়েছে।
পরিকাঠামো সম্প্রসারণ:
ব্যাংকের বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ৪৩টি এটিএম রয়েছে, যার মধ্যে ২৪টি গ্রামীণ, ১৬টি আধা-শহরাঞ্চলে এবং ৩টি শহরাঞ্চলে অবস্থিত। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকায় ব্যাংকিং পরিষেবা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের আর্থিক সাফল্য:
• মোট ব্যবসা বৃদ্ধি পেয়ে ₹১৫,৪২২ কোটি
• আমানত বৃদ্ধি পেয়ে ₹১০,৮৮৯ কোটি
• ঋণ বৃদ্ধি পেয়ে ₹৪,৫৩২ কোটি
• সিডি রেশিও উন্নীত হয়ে ৪১.৬২%
• অপারেটিং প্রফিট ₹২৩৬.১০ কোটি
• নিট মুনাফা ₹১৮৪.৮৪ কোটি (৭৬% এরও বেশি বৃদ্ধি)
• বছরে মোট ঋণ বিতরণ ₹২,৮৫৪.৭১ কোটি
সম্পদের গুণমান ও স্থিতিশীলতা:
• গ্রস এনপিএ কমে ২.৮৯%
• নেট এনপিএ শূন্য
• ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি রেশিও ২৮.৫৮%
এটি ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা, সুশৃঙ্খল ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার প্রতিফলন।

উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি:
• প্রতি শাখায় ব্যবসা ₹১০২.৮১ কোটি
• প্রতি কর্মী ব্যবসা ₹১৭.৭৭ কোটি
অগ্রাধিকার খাত ও গ্রামীণ উন্নয়ন:
• কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ঋণ ₹১,১১৯.০৫ কোটি
• মোট অগ্রাধিকার খাত ঋণ ₹৩,৪৯৯.৮১ কোটি (৭৭.২২%)
আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে নেতৃত্ব:
• ৫.৩৯ লক্ষ প্রধানমন্ত্রী জনধন অ্যাকাউন্ট
• ৪.৫৮ লক্ষ প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনা
• ১.৭৩ লক্ষ প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা
• ১.৮৯ লক্ষ অটল পেনশন যোজনা গ্রাহক
গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সহায়তা:
• ২৯,৬৬১টি কিসান ক্রেডিট কার্ড ঋণ
• ১৬,৩৬০টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী ঋণ
• ১২,৫০৪টি মুদ্রা ঋণ
• PMEGP, স্বাবলম্বন, PMFME, PM SVANidhi, RTO ঋণ সহ নানা প্রকল্পে সহায়তা
বাসস্থান ও শিক্ষা সহায়তা:
• ১,১০১টি গৃহঋণ অনুমোদন (₹২৬০.৬৪ কোটি)
• শিক্ষা ঋণ ৮৬টি (₹৪.৫৮ কোটি)
ডিজিটাল রূপান্তর:
• ই-ব্যাংক গ্যারান্টি চালু
• পিএনবি-র সঙ্গে কো-ব্র্যান্ডেড ক্রেডিট কার্ড
• মোবাইল ব্যাংকিংয়ে BBPS, IMPS ও নিরাপত্তা আপগ্রেড
• ৬টি ই-লবি চালু, আরও ৯টি প্রক্রিয়াধীন
• ৪৮৭টি বিসি পয়েন্ট, যার মধ্যে ১৪৮টি বিসি সখী
• আধার ডাটা ভল্ট ও উন্নত ডিজিটাল সিকিউরিটি ব্যবস্থা।
স্বীকৃতি ও পুরস্কার:
• APY প্রচারে সর্বভারতীয় RRB-গুলির মধ্যে ২য় স্থান
• একাধিক ডায়মন্ড, লিডারশিপ ও এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড
• SHG ঋণ প্রচারে ১ম স্থান
• আঞ্চলিক সরস মেলায় শ্রেষ্ঠ বিভাগীয় স্টল
• SKOCH Award 2025 লাভ
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
• ডিজিটাল ব্যাংকিং আরও শক্তিশালী করা
• কৃষি, MSME ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের ঋণ সম্প্রসারণ
• গ্রাহক পরিষেবা ও আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি
• আত্মনির্ভর ভারত ও বিকশিত ত্রিপুরার লক্ষ্যে সহায়তা।
পরিশেষে সাংবাদিক বৈঠকে বক্তারা বলেন, ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক ভবিষ্যতেও জনগণের আস্থা, গ্রাহকসেবা এবং ত্রিপুরার উন্নয়নের সহযাত্রী হিসেবে কাজ করে যাবে।

