ডেস্ক রিপোর্টার,২৫ এপ্রিল।।
রাজ্য জুড়ে সড়ক দুর্ঘটনা এখন এক অভিশপ্ত প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছে। আধুনিক যুগে রাস্তার প্রশস্তিকরণ হয়েছে, যানবাহনের সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। কিন্তু চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা আর প্রশাসনের শিথিলতায় প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। এই মরণোৎসবের সর্বশেষ বলি হলেন শহরের পরিচিত মুখ, মধ্যভুবন বড়জলা এলাকার বাসিন্দা জীবন রায়।
শহরবাসীর কাছে জীবন রায় ছিলেন এক অতি পরিচিত ও পরিশ্রমী ব্যক্তিত্ব। একটি বাইসাইকেল নিয়ে “পচা পচা পচা” হাঁক দিতে দিতে হরেক রকমের আচার বিক্রি করে সংসার চালাতেন তিনি। গত কয়েকদিন আগে এক বেপরোয়া গাড়ি চালক তাঁকে সজোরে ধাক্কা মারে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওই ঘাতক চালকটি জীবন বাবুকে ধাক্কা দেওয়ার আগে আরও দুজনকে আহত করেছিল। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
খবর অনুযায়ী, চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, তাঁর বুকের তিনটি, কোমরের একটি এবং পায়ের দুটি সহ মোট ছয়টি হাড় ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। এক পরিশ্রমী মানুষের এমন মর্মান্তিক প্রয়াণে তাঁর পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এই ঘটনা আবারও রাজ্যের ট্রাফিক ব্যবস্থা ও জনসচেতনতার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে। জনগণের অভিযোগ, প্রশাসনের ‘লাঠি’ বা কড়াকড়ি না থাকায় চালকরা যা খুশি তাই করছে। বিশেষ করে শহরের অলিগলিতে নাবালকদের বেপরোয়া বাইক ও গাড়ি চালানো এখন নিত্যদিনের চিত্র। যদিও সরকারি নিয়মে নাবালকদের গাড়ি চালানোর দায়ে অভিভাবকদের ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তার প্রয়োগ নিয়ে সংশয় রয়েছে। অভিযোগ উঠছে, ট্রাফিক পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে নিয়ম লঙ্ঘন হলেও অনেক ক্ষেত্রে ‘ম্যানেজমেন্ট’ বা অন্য কোনো উপায়ে পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা।
জীবন রায়ের মতো একজন সহজ-সরল ও পরিশ্রমী মানুষের মৃত্যু কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি একটি পরিবারের মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়ার গল্প। আজ শহরজুড়ে সেই চিরচেনা আচারের হাঁক আর শোনা যাবে না। প্রশাসনের ঘুম কবে ভাঙবে? এবং সাধারণ মানুষ কবে সচেতন হবে?—জীবন রায়ের এই করুণ প্রয়াণ এখন সেই প্রশ্নই রেখে গেল।

