দুর্ঘটনার পরই পরিবারের পক্ষ থেকে তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসনের দুর্যোগ মোকাবেলা বিভাগে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথমে মাত্র একজন স্বেচ্ছাসেবককে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। আশ্চর্যজনকভাবে, তাঁর কাছে গাছ কাটার কোনো সরঞ্জাম বা প্রয়োজনীয় উপকরণ ছিল না! ফলে কার্যত নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া তাঁর আর কিছুই করার ছিল না।
তেলিয়ামুড়া ডেস্ক, ২৫ জুন ।।
ফের প্রকাশ্যে এলো তেলিয়ামুড়া মহকুমার দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগের চরম অব্যবস্থা ও গাফিলতির চিত্র।বুধবার রাতে তেলিয়ামুড়া গামাইবাড়ি এলাকার বাসিন্দা তথা এসপিও জওয়ান অর্জুন দাসের বসত ঘরে আচমকা ভেঙ্গে পড়ে একটি বিশালাকৃতির গাছ। অল্পের জন্য বেঁচে যান অর্জুন দাসের পরিবারের সদস্যরা। গাছের চাপায় বসত ঘরের একাংশ ভূ-পতিত হয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ আতঙ্কগ্রস্থ অর্জুন দাসের পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন।
দুর্ঘটনার পরই পরিবারের পক্ষ থেকে তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসনের দুর্যোগ মোকাবেলা বিভাগে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথমে মাত্র একজন স্বেচ্ছাসেবককে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। আশ্চর্যজনকভাবে, তাঁর কাছে গাছ কাটার কোনো সরঞ্জাম বা প্রয়োজনীয় উপকরণ ছিল না! ফলে কার্যত নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া তাঁর আর কিছুই করার ছিল না।
অন্যদিকে গাছ কাটার সরঞ্জাম নিয়ে একাধিক স্বেচ্ছাসেবক মহকুমা শাসকের কার্যালয় চত্বরে গাড়ির অপেক্ষায় বসে ছিলেন।পরে ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর ৩-৪ জন স্বেচ্ছাসেবক কোনো হেলমেট ছাড়াই, নিজেদের মোটরসাইকেলে বিপজ্জনকভাবে সরঞ্জাম বহন করে পৌঁছান অকুস্থলে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি কোষাগারের লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে কিছুদিন পর পর দুর্যোগ মোকাবিলার নামে বড়সড় ‘মক ড্রিল’ বা মহড়ার আয়োজন করে প্রশাসন। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিতে সেই প্রস্তুতির আসল কঙ্কালসার রূপটি বেরিয়ে পড়ছে বারবার। এলাকাবাসীর সাফ কথা—”কাগজে-কলমে বা মহড়ায় নয়, বাস্তবে মানুষের জীবন বাঁচানোর মতো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন।

