সম্প্রতি  এডিসি নির্বাচনে তিপ্রামথার ল্যান্ডস্লাইট ভিকট্রি হয়েছে। তাই ভিলেজ কমিটির নির্বাচনের আগে  মনস্তাত্বিক দিক দিয়ে অনেকটাই এগিয়ে মাথার সুপ্রিমো প্রদ্যুৎ কিশোর।এডিসির সিংহভাগ ভিসি দখল নেওয়াই এখন জনজাতিদের বুবাগ্রার পাখির চোখ। স্বাভাবিকনাভাবেই দুর্গ রক্ষার মরণপণ লড়াইয়ে স্ক্রিপ্ট রচনা করতে ব্যস্ত লাল – হলুদ শিবির।

ডেস্ক রিপোর্টার , ২১ জুন ।।
     সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ—কোনো টালবাহানা নয়, সেপ্টেম্বর মাসেই শেষ করতে হবে বহু প্রতীক্ষিত ভিলেজ কমিটির নির্বাচন। দেশের শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশের পর থেকেই রাজ্যের পাহাড়ে বইতে শুরু করেছে রাজনৈতিক ঝড়। এডিসির শাসন ক্ষমতায় থাকা তিপ্রামথা, রাজ্যের প্রধান শাসক দল বিজেপি এবং তাদের জোট শরিক আইপিএফটি—তিন শিবিরের অন্দরেই শুরু হয়ে গেছে হিসেব-নিকেশ। বিধানসভা বা লোকসভায় জোট থাকলেও,পাহাড়ে নিজেদের অস্তিত্ব  ও আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে কার কি রণকৌশল হতে পারে? এই প্রশ্ন এখন রাজ্য ও রাজনৈতিক মহলের অধিক চর্চিত বিষয়।
        সম্প্রতি  এডিসি নির্বাচনে তিপ্রামথার ল্যান্ডস্লাইট ভিকট্রি হয়েছে। তাই ভিলেজ কমিটির নির্বাচনের আগে  মনস্তাত্বিক দিক দিয়ে অনেকটাই এগিয়ে মাথার সুপ্রিমো প্রদ্যুৎ কিশোর।এডিসির সিংহভাগ ভিসি দখল নেওয়াই এখন জনজাতিদের বুবাগ্রার পাখির চোখ। স্বাভাবিকনাভাবেই দুর্গ রক্ষার মরণপণ লড়াইয়ে স্ক্রিপ্ট রচনা করতে ব্যস্ত লাল – হলুদ শিবির।
     সদ্য সমাপ্ত এডিসি  নির্বাচনে মোট ২৮টি’র মধ্যে ২৪টি আসনে জয় পেয়ে দ্বিতীয় বারের মতো পাহাড়ের মসনদ দখল করেছে তিপ্রামথা। তাই তৃণমূল স্তরে ক্ষমতা ধরে রাখতে ভিলেজ কমিটির ভোটই হবে প্রদ্যুতের কাছে এসিড টেস্ট।
   পাহাড় রাজনীতিতে  গুঞ্জন,  এডিসি নির্বাচনের মতোই মথা আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনেও এককভাবে লড়ার কৌশল নিতে পারে! সেইসাথে তিপ্রাল্যান্ড বা জনজাতিদের সাংবিধানিক অধিকারের আবেগকে ফের উসকে দিতে পারে । এবং রাজ্যের জনজাতিদের বোঝাতে চাইবে—দিল্লির দল নয়,পাহাড়ের অধিকার কেবল মথাই রক্ষা করতে পারে।


৫৮৭টি ভিলেজ কমিটির সিংহভাগ পকেটস্থ করে এডিসি প্রশাসনের ওপর নিজেদের রাশ সম্পূর্ণ নিষ্কণ্টক করার চেষ্টা করতে পারেন প্রদ্যুৎ।
রাজনীতিকরা বলছেন,সাম্প্রতিক সময়ে দলের কিছু নেতার বিজেপি-তে যোগদানের যে প্রবণতা দেখা গেছে, তা রুখতে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের টিকিট দিতে পারে। শুধু তাই নয়, ভিলেজ ভোটে  মথা নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় “বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই-র কৌশল নিতে পারে! যাতে গ্রাসরুট স্তরে দলের আদিবাসী কেন্দ্রিক ভোটব্যাংক অক্ষুণ্ণ থাকে।
              পরিশেষে বলতে হয়, একদিকে সুপ্রিম কোর্টের ডেডলাইন, অন্যদিকে বর্ষার মরসুম—তারই মধ্যে ভিলেজ কমিটির নির্বাচন রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে। লোকসভা বা বিধানসভার জোটের সমীকরণ কি পাহাড়ের মাটিতে টিকবে?, নাকি গ্রামীণ ক্ষমতার অলিন্দে বন্ধুরাই বদলে যাবে প্রতিদ্বন্দ্বীতে? এই কোটি টাকার প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরো কিছুটা দিন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *