রাজ্যের সংবাদ ব্যক্তিত্বদের দাবি, সংবাদ জগতের সাধারণ উদ্যোক্তা ও নতুন উদ্যোগের পাশে দাঁড়ানোর বদলে ভাজপা সরকার প্রভাবশালী পুঁজির স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর ফলে ইতিমধ্যে রাজ্যের বহু টিভি চ্যানেল, পত্রিকা ও ওয়েব পোর্টাল তাদের অফিসের ঝাঁপ বুজিয়ে নিয়েছে। বেকার হয়েছে বহু সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমের বহু কর্মী। তাদের পেটে নেই ভাত।
ডেস্ক রিপোর্টার, ২০ আগস্ট।। স্টার্টআপ ইন্ডিয়া, আত্মনির্ভর ভারত—দেশের তরুণ প্রজন্মকে স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে এই স্লোগান বহুদিন ধরেই সামনে নিয়ে এসেছে ডাবল ইঞ্জিনের কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপি সরকার। কিন্তু অভিযোগ, বাস্তব চিত্রটা অনেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন। বিশেষ করে ত্রিপুরার সংবাদ জগতের মানচিত্রে। অভিযোগ , সম্প্রতি রাজ্যের সংবাদমাধ্যমের পুঁজিবাদী অংশের স্বার্থ সুরক্ষায় বিজেপি লিড সরকারের একাংশের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা কাছা কেচে মাঠে নেমেছে আদা – জল খেয়ে। মুখে মুখে নিজেদের “মিডিয়া বান্ধব সরকার” বলে জাহির করলেও আদতে তারা রাজ্যের সংবাদ জগতে শুরু করেছে “মাৎস্যন্যায় সংস্কৃতি “।
সংবাদ জগতের সাধারণ উদ্যোক্তা ও নতুন উদ্যোগের পাশে দাঁড়ানোর বদলে ভাজপা সরকার প্রভাবশালী পুঁজির স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
রাজ্যের সংবাদ ব্যক্তিত্বদের দাবি, সংবাদ জগতের সাধারণ উদ্যোক্তা ও নতুন উদ্যোগের পাশে দাঁড়ানোর বদলে ভাজপা সরকার প্রভাবশালী পুঁজির স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর ফলে ইতিমধ্যে রাজ্যের বহু টিভি চ্যানেল, পত্রিকা ও ওয়েব পোর্টাল তাদের অফিসের ঝাঁপ বুজিয়ে নিয়েছে। বেকার হয়েছে বহু সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমের বহু কর্মী। তাদের পেটে নেই ভাত। এই খবর অবশ্যই পৌঁছেছে রাজ্যের ক্ষমতার মানদণ্ড হাতে থাকা দন্ডমুন্ডের কর্তাদের কর্ণকুহরে। তারপরও তারা ব্যস্ত পুঁজিবাদী সংবাদ মাধ্যমের ভোগ – বিলাসকে সযত্নে লালন পালন করতে।
একদিকে স্টার্টআপ ইন্ডিয়া।অন্যদিকে আত্মনির্ভর ভারত।স্লোগানে আত্মনির্ভরতার কথা, বাস্তবে কার স্বার্থ সুরক্ষিত হচ্ছে?সেই প্রশ্নই এখন রাজ্যের বৃহৎ অংশের সংবাদ মাধ্যমের কাছে স্ফটিকের মতো স্পষ্ট।
দীর্ঘ বছর ধরেই রাজ্যের সংবাদ মাধ্যমের জন্য তৈরি করা “নতুন নীতি” ফাইল বন্দি হয়ে পড়ে আছে রাজ্য সচিবালয়ে।
তথ্য অনুযায়ী , দীর্ঘ বছর ধরেই রাজ্যের সংবাদ মাধ্যমের জন্য তৈরি করা “নতুন নীতি” ফাইল বন্দি হয়ে পড়ে আছে রাজ্য সচিবালয়ে। নতুন নীতি প্রণয়ন না হওয়াতে রাজ্যের বহু টিভি চ্যানেল, পত্রিকা ও ওয়েব পোর্টাল সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আর ত্রিপুরার মতো ছোট্ট রাজ্যে সরকারি সুযোগ – সুবিধা ব্যতীত মূল স্রোতের কোনো সংবাদ মাধ্যমই হামাগুড়ি পর্যন্ত দিতে পারে না। শৈশবের স্বপ্ন তো অনেক দূর। কিশোর থেকে যুবক, এবং প্রৌঢ় হওয়ার দুঃস্বপ্ন দেখাতে পারে না কোনো সংবাদ মাধ্যমই। তাই রাজ্যের সংবাদ মাধ্যম গুলির পায়ের নিচে জমি শক্ত করতে প্রয়োজন সরকারি সুযোগ – সুবিধা । কারণ, এখানে নেই কোনো বড় ও মাঝারি মাপের ইন্ডাস্ট্রি। যার দেওয়া বিজ্ঞাপনের টাকায় সংসার চলবে সংবাদ মাধ্যমের অফিস গুলির।
সংবাদ মাধ্যমের জন্য তথ্য দপ্তরের তৈরি করা নতুন নীতি প্রণয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রিসভার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বৃহস্পতিবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। কিন্তু এদিন অপ্রত্যাশিত ভাবে সংবাদ মাধ্যমের জন্য প্রণয়ন করা নতুন নীতির ফাইল তোলা হয় নি মন্ত্রিসভার বৈঠকে। একথা স্পষ্ট ভাবেই জানিয়েছেন রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রবক্তা মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীর কথায়, সংবাদ মাধ্যমের জন্য তথ্য দপ্তরের তৈরি করা নতুন নীতি প্রণয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রিসভার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে তিনি বলেছেন, তথ্য দপ্তর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার হাতে।মুখ্যমন্ত্রী নিজেও এই বিষয়ে যথেষ্ট সংবেদনশীল।
এখন প্রশ্ন— সংবাদ মাধ্যমের আত্মনির্ভরতা কি শুধুই বক্তৃতার মঞ্চে সীমাবদ্ধ থাকবে?
রাজ্যের যে সব নেতা – মন্ত্রী বারবার আত্মনির্ভরতার ঢেঁকুর তুলছেন,তাদের কাছেই এখন প্রশ্ন— সংবাদ মাধ্যমের আত্মনির্ভরতা কি শুধুই বক্তৃতার মঞ্চে সীমাবদ্ধ থাকবে? নাকি বাস্তবেও এর প্রতিফলন দেখা যাবে? যদি দেখা যায়, তা কবে? সমালোচকদের ভাষায়, রাজ্যের সংবাদ জগতের ক্ষেত্রে স্টার্টআপ ইন্ডিয়া আর আত্মনির্ভর ভারত এখন যেন এক খালি কলস। তার শব্দ হচ্ছে ঠিকেই। কিন্তু বাস্তবে সাফল্যের জল কতটা? এই মিলিয়ন ডলারের প্রশ্নের উত্তর দেবে কে?এখন আর স্লোগান বা ভাষণবাজী নয়, বাস্তব ফলাফল দেখতে চায় রাজ্যের সংবাদ জগতের নতুন উদ্যোক্তারা।