ডেস্ক রিপোর্টার, ১৯ আগস্ট।।
       আধুনিক ত্রিপুরার স্থপতি মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুরের ১১৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর মানিক সাহা। বুধবার আগরতলার কামান চৌমুহনীতে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে মহারাজার আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তিনি।আগরতলা পুর নিগমের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও মেয়র দীপক মজুমদার, বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা বিধায়ক অভিষেক দেবরায়,তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য,আগরতলা পুর নিগমের কমিশনার সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুরই ছিলেন আধুনিক ত্রিপুরার প্রকৃত রূপকার।” একই সাথে বিগত বাম সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা ও কটাক্ষ করেন তিনি।
      উল্লেখ্য,১৯২৩ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত মহারাজা বীর বিক্রমের শাসনকালকে ত্রিপুরার পরিকাঠামো ও শিক্ষা প্রসারের ‘সুবর্ণ যুগ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলির মধ্যে রয়েছে ১৯৪৭ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ঐতিহ্যবাহী মহারাজা বীর বিক্রম কলেজ। পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে একাধিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভৌগোলিক গুরুত্ব অনুধাবন করে রাজ্যের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার সূচনা হিসেবে আগরতলা বিমানবন্দর নির্মাণ করেন, যা বর্তমানে ‘মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দর’ নামে পরিচিত। রাজধানী আগরতলাকে আধুনিক রূপ দিতে বিশেষ নগর পরিকল্পনা, পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করেন।বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে তাঁর এবং মাণিক্য রাজপরিবারের গভীর আত্মিক সম্পর্ক ছিল। শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশে তিনি নিয়মিত আর্থিক ও সামাজিক সহযোগিতা প্রদান করে গেছেন।
মোটের উপর মহারাজার এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তসমূহ এবং সামাজিক-পরিকাঠামোগত পদক্ষেপগুলোই আজকের আধুনিক ত্রিপুরার মজবুত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *