সম্প্রতি এডিসি নির্বাচনে এককভাবে লড়াই করে নিজেদের শক্তি জাহির করেছে তিপ্রামথা। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে শাসক বিজেপি এবং তিপ্রামথার মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে দোলাচল অব্যাহত। কিন্তু এই ক্ষমতার অলিন্দে নিঃশব্দে নিজেদের দাবার ঘুঁটি সাজাচ্ছে আইপিএফটি।
ডেস্ক রিপোর্টার,২৫ আগস্ট।। পাহাড়ের রাজনীতিতে ফের উত্তাপ বাড়াচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত এডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচন। রাজভবন থেকে রাজ্য রাজনীতি— সর্বত্রই এক প্রশ্ন, কোন সমীকরণে এগোচ্ছে জোটের অংক?একদিকে ক্ষমতাসীন বিজেপি, অন্যদিকে তিপ্রামথা— দুই দলের সমীকরণ যখন দোলাচলে, ঠিক সেই মুহূর্তে তৈরি হয়েছে এক জটিল কৌশলগত পরিস্থিতি। আর এই ঘোলা জলেই কি এবার নতুন রাজনৈতিক সুযোগ খুঁজছে জোটের অপর ছোট শরিক আইপিএফটি? পাহাড়ে সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা থানায় মথার শর্ত মেনে নেওয়া ছাড়া বিজেপির কোনো বিকল্প রাস্তা নেই! এটা ধ্রুব বাস্তব। নাকি এই রাজনীতির বৃত্তের বাইরেও চলছে অন্য কোনো রাজনীতি। যেই বিকল্প রাজনীতির পথ গলে ভিসি নির্বাচনে বেরিয়ে যাবে ভাজপা শিবির? এই বিকল্প রণকৌশলের স্ক্রিপ্ট কি রচনা করেছেন মোদী – শাহ? উঠছে প্রশ্ন।
পাহাড়ের প্রশাসনিক ভিত্তি তৈরি করে ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটি। তাই এই লড়াই শুধুমাত্র স্থানীয় স্তরের নয়, এটি ২০২৮-এর বিধানসভা নির্বাচনের মহড়াও বটে।
পাহাড়ের প্রশাসনিক ভিত্তি তৈরি করে ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটি। তাই এই লড়াই শুধুমাত্র স্থানীয় স্তরের নয়, এটি ২০২৮-এর বিধানসভা নির্বাচনের মহড়াও বটে। সম্প্রতি এডিসি নির্বাচনে এককভাবে লড়াই করে নিজেদের শক্তি জাহির করেছে তিপ্রামথা। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে শাসক বিজেপি এবং তিপ্রামথার মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে দোলাচল অব্যাহত। কিন্তু এই ক্ষমতার অলিন্দে নিঃশব্দে নিজেদের দাবার ঘুঁটি সাজাচ্ছে আইপিএফটি।একসময় পাহাড়ে এককভাবে জোয়ার আনা আইপিএফটি আজ ভাঙনে জর্জরিত। শীর্ষ নেতৃত্বের প্রয়াণ এবং কর্মী সমর্থকদের তিপ্রামথামুখী হওয়ার ফলে তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি অনেকটাই দুর্বল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দুর্বলতাকে ঢাকার জন্যই আইপিএফটির প্রাথমিক কৌশল হতে পারে “তৃতীয় পক্ষ” হিসেবে নিজেদের দর কষাকষির জায়গায় রাখা।আইপিএফটির সম্ভাব্য ৪টি মূল রণকৌশল।জোটে থেকে চাপ সৃষ্টির রাজনীতি।নিজ দলের প্রতীকী উপস্থিতি বজায় রাখা।ত্রিমুখী লড়াইয়ের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা।জোট শরিক দুই দলের শর্ত মেনে সমঝোতা করা।
সমঝোতা না হলে বিজেপি ও তিপ্রা মথার ভোট কাটাকাটির সুযোগ নিয়ে ক্ষুদ্র জনজাতি গোষ্ঠীগুলির ভোট নিজেদের বাক্সে টানার চেষ্টা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিজেপি এবং তিপ্রামথা যদি আসন সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে আইপিএফটি বিজেপির কাছে নিজেদের একমাত্র অনুগত জনজাতি শরিক হিসেবে তুলে ধরে নির্দিষ্ট কিছু আসনে জোর দাবি জানাতে পারে।দ্বিতীয়তঃ,পুরো পাহাড়ে না হলেও নির্দিষ্ট কিছু পকেটে যেখানে এখনো তাদের পুরনো ভিত্তি রয়েছে সেখানে আসন দাবি করে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা।তৃতীয়তঃ,সমঝোতা না হলে বিজেপি ও তিপ্রা মথার ভোট কাটাকাটির সুযোগ নিয়ে ক্ষুদ্র জনজাতি গোষ্ঠীগুলির ভোট নিজেদের বাক্সে টানার চেষ্টা। চতুর্থত,বাস্তবতা স্বীকার করে নিয়ে বিজেপি বা মথার ঠিক করা শর্ত অনুযায়ী সীমিত আসনেই সন্তুষ্ট থাকা।
প্রশ্ন উঠছে, সাংগঠনিক ক্ষমতার সীমারেখায় দাঁড়িয়ে আইপিএফটি কি আদৌ কোনো বড় শর্ত চাপানোর পরিস্থিতিতে আছে?
প্রশ্ন উঠছে, সাংগঠনিক ক্ষমতার সীমারেখায় দাঁড়িয়ে আইপিএফটি কি আদৌ কোনো বড় শর্ত চাপানোর পরিস্থিতিতে আছে? তবে পাহাড়ে নিজেদের মাটি শক্ত করার জন্য দলের নেতা শুক্লা চরণ নোয়াতিয়া ফের তিপ্রাল্যান্ডের দাবিতে সরব হয়েছেন। তিনি পরিষ্কার ভাবেই তিপ্রাল্যান্ডের দাবি করেছেন। তবে বিজেপি আগেই জানিয়ে দিয়েছে তিপ্রাল্যান্ড বা গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড কোনোটাই হবে না। অর্থাৎ ভাগ হচ্ছে না ত্রিপুরা।
।।শুক্লা চরণ নোয়াতিয়া ।।
বাস্তবতা বলছে, রাজ্য সরকারে টিকে থাকা এবং পাহাড়ে অস্তিত্ব রক্ষার খাতিরে শেষ পর্যন্ত বিজেপি বা তিপ্রামথার দেওয়া শর্ত মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের কাছে বিকল্প রাস্তা অত্যন্ত কম।
বাস্তবতা বলছে, রাজ্য সরকারে টিকে থাকা এবং পাহাড়ে অস্তিত্ব রক্ষার খাতিরে শেষ পর্যন্ত বিজেপি বা তিপ্রামথার দেওয়া শর্ত মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের কাছে বিকল্প রাস্তা অত্যন্ত কম।তবে রাজনৈতিক সমীকরণে কোনো সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সে যাই হোক, ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের দিন যত এগোবে,পাহাড়ের এই রাজনৈতিক দাবা খেলা ততই রোমাঞ্চকর হয়ে উঠবে। আইপিএফটি শেষ পর্যন্ত নিজেদের গুরুত্ব কতটা ধরে রাখতে পারবে, নাকি বড় দুই শক্তির ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায়— তা অবশ্য সময়ই বলবে।