বাংলাদেশের সঙ্গে সবার আগে অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক দরকার। অর্থনৈতিক সম্পর্ক ভালো থাকলে অন্যান্য ক্ষেত্রের সম্পর্কও সুন্দরভাবে এগিয়ে যাবে। দুই দেশের মধ্যে কোনো কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান চায়।
#সমীরণ রায়#
__________________
ঢাকা ডেস্ক,২৪ আগস্ট।।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে আরও সৌহার্দ্যপূর্ণ, পারস্পরিক আস্থাভিত্তিক ও অর্থবহ করতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক নির্ভরতা যত বাড়বে, রাজনৈতিকসহ অন্যান্য সম্পর্কও তত স্বাভাবিক ও শক্তিশালী হবে।
সোমবার ঢাকার সচিবালয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এসময় ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সবার আগে অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক দরকার। অর্থনৈতিক সম্পর্ক ভালো থাকলে অন্যান্য ক্ষেত্রের সম্পর্কও সুন্দরভাবে এগিয়ে যাবে। দুই দেশের মধ্যে কোনো কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান চায়। তাই বাংলাদেশ ও ভারতের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করাই সবার দায়িত্ব।
দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করতে যৌথ উদ্যোগে উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন ভারতীয় হাইকমিশনার। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা পোশাক দেখলে তাঁর ভালো লাগে, গর্ববোধ হয়। বাংলাদেশের এই সাফল্যের সঙ্গে ভারতের শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে যুক্ত করা গেলে উভয় দেশই লাভবান হবে।
তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশকে জিপার, বোতাম, যন্ত্রপাতিসহ পোশাক শিল্পের প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করতে পারে। যৌথ বিনিয়োগ ও উৎপাদনের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতা আরও বাড়ানো সম্ভব।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। গত দেড় বছরে বাণিজ্যে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলেও তা দূর করে সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ সময় সীমান্তবন্দর পুরোপুরি সচল করা, বন্ধ থাকা বর্ডার হাট পুনরায় চালু, স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানির বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা, ব্যবসায়ীদের নিয়ে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়েও আলোচনা হয়।
দুই প্রতিবেশী দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করে জনগণের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।

