পাহাড়ের ভোট নিয়ে জল্পনার অবসান!ত্রিদলীয় জোটেই সিলমোহর দিল শাসক শিবির।ভিসি নির্বাচনে হাত ধরাধরি করে ময়দানে নামছে বিজেপি, তিপ্রা মোথা এবং আইপিএফটি।আর এই এক চালে ২০২৮’র বিধানসভা দখলের রাস্তা অনেকটাই সুগম করে ফেলল পদ্ম শিবির।

ডেস্ক রিপোর্টার, ৬ সেপ্টেম্বর।।
   রাজ্য রাজনীতিতে বিশাল মোড়! আসন্ন এডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে এককভাবে নয়, জোটবদ্ধ লড়াইয়ের মেগা সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যের শাসক শিবির। ভারতীয় জনতা পার্টি, তিপ্রামথা এবং আইপিএফটি —এই তিন দল এক ছাতার তলায় এসে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করবে।
  পাহাড়ের ভোট নিয়ে জল্পনার অবসান!ত্রিদলীয় জোটেই সিলমোহর দিল শাসক শিবির।ভিসি নির্বাচনে হাত ধরাধরি করে ময়দানে নামছে বিজেপি, তিপ্রা মোথা এবং আইপিএফটি।আর এই এক চালে ২০২৮’র বিধানসভা দখলের রাস্তা অনেকটাই সুগম করে ফেলল পদ্ম শিবির।
পাহাড়ের নির্বাচনী রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের যে বরফ জমেছিল, দিল্লির এক বৈঠকে তা পুরোপুরি গলে গেল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে চূড়ান্তে রূপ নিল এক বড় সমঝোতা। সিদ্ধান্ত একটাই—এডিসি এলাকার ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটির লড়াইয়ে একসঙ্গে নামবে শাসক জোটের তিন শরিক।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ভিলেজ কমিটির এই নির্বাচন কেন বিজেপির জন্য এতটা গুরুত্বপূর্ণ? আর কীভাবে এই জোট ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পথ সুগম করছে?

২০২৮-এর মাস্টারপ্ল্যান!কেন এটি বিজেপির বড় রাজনৈতিক চাল?

প্রথমত,পাহাড়ের জনভিত্তি মজবুত করা। এডিসির পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই তিপ্রা মোথার একচ্ছত্র আধিপত্য। পৃথকভাবে লড়লে ভোট মেরুকরণ ও বিরোধীদের সুবিধার যে ঝুঁকি ছিল, জোটবদ্ধ লড়াইয়ের ফলে সেই আশঙ্কা পুরোপুরি কেটে গেল।
দ্বিতীয়ত,পাহাড় সমতলের মেলবন্ধন।অর্থাৎ বিজেপি সমতলে শক্তিশালী হলেও পাহাড়ে তিপ্রা মোথা এবং আইপিএফটির নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। এই তিন দল এক হয়ে ভোটে নামায় পাহাড়ে বিরোধীদের অর্থাৎ বাম জোটের লড়াই করার সুযোগ কার্যত সীমিত হয়ে গেল।
     তৃতীয়ত,ত্রিপরা চুক্তি’ বাস্তবায়নের বার্তা।অর্থাৎ তিপ্রা মোথা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে হওয়া ত্রিপক্ষীয় চুক্তি ও আদিবাসীদের অধিকার সম্পর্কিত প্রতিশ্রুতির ইতিবাচক অগ্রগতি এই জোটের পথ মসৃণ করেছে। এতে জনজাতি ভোটারদের আস্থা অর্জনে বাড়তি রসদ পাবে বিজেপি।
      চতুর্থত,২০২৮ বিধানসভার সেমিফাইনাল।অর্থাৎ ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে বলা যায় রাজ্য রাজনীতির অ্যাসিড টেস্ট বা সেমিফাইনাল। এখানে জোটের জয় সুনিশ্চিত করতে পারলে ২০২৮-এর বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ে কুড়িটি জনজাতি সংরক্ষিত আসনে শাসক জোট বিশাল রাজনৈতিক সুবিধা পাবে।

পাহাড়ের গ্রাম পরিষদ নির্বাচনে তিন দলীয় জোট রাজ্য রাজনীতির জন্য এক মেগা টার্নিং পয়েন্ট!

রাজনীতিকদের কথায়, পাহাড়ের গ্রাম পরিষদ নির্বাচনে তিন দলীয় জোট রাজ্য রাজনীতির জন্য এক মেগা টার্নিং পয়েন্ট!পাহাড়ের রাজনীতিতে রাজপরিবারের ‘তিপ্রাসার’ আবেগ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সাংগঠনিক ক্ষমতা, যখন একসঙ্গে ভোটের ময়দানে নামছে, তখন সমতলের রাজনীতিতেও তার সরাসরি প্রভাব পড়া স্বাভাবিক। ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের এই যৌথ লড়াই কেবল স্থানীয় ক্ষমতার দখল নয়, বরং ২০২৮-র মহাকরণ দখলের ফাইনাল ব্লু-প্রিন্ট’র আগাম স্ক্রিপ্ট রচনা হয়ে গেলো।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *