ডেস্ক রিপোর্টার, ৫ অক্টোবর।।
ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড. মানিক সাহা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এডিসি নির্বাচনের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করলে এবার সামগ্রিকভাবে বড় ধরনের ঘটনা দেখা যায়নি। তবে এক-দু’টি জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে উত্তেজনা ও হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকটি গণনা কেন্দ্রের বাইরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কোথাও কোথাও পাথর ছোড়াছুড়ির মতো ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। নিরাপত্তা বাহিনী মৃদু লাঠিচার্জ করলে সেখানে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়। সেই সময় একজন ব্যক্তি নিচে পড়ে গুরুতরভাবে আহত হন। পরবর্তীতে তাঁকে গাড়িতে করে জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অপ্রয়োজনীয়ভাবে একজনের মৃত্যু হল। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।” মৃত ব্যক্তি কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সে বিষয়ে তাঁর কাছে সেই সময় পর্যন্ত সম্পূর্ণ রিপোর্ট এসে পৌঁছায়নি বলেও জানান তিনি। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং মৃত ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষা করা প্রয়োজন বলে ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী।
একই সঙ্গে গণনা কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সতর্ক করেন। গণনা প্রক্রিয়া যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এবং রাজনৈতিক দলগুলির কর্মী-সমর্থকরা যাতে সংযত থাকেন, সেই আবেদন জানান তিনি।
এদিকে গণনাকেন্দ্রে উত্তেজনার মধ্যেই আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা আইজির গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও সামনে এসেছে। এই ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই কাম্য নয় বলে স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। ভোট গণনার সময় রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা উত্তেজনা থাকতেই পারে, কিন্তু সেই উত্তেজনা যেন সংঘর্ষ, ভাঙচুর কিংবা প্রাণহানির মতো পরিস্থিতিতে পরিণত না হয়। সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে চলা নির্বাচনকে কোনওভাবেই হিংসাত্মক ঘটনা দিয়ে নষ্ট করা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের ফলাফল যেদিকেই যাক না কেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদেরও সংযত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
গণনা কেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর প্রশাসন ও পুলিশ নজর রাখছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে যেকোনও ধরনের উসকানি, পাথর ছোড়াছুড়ি, নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা কিংবা সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো ঘটনা থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক গণনায় খোয়াইসহ কয়েকটি কেন্দ্রে নিরাপত্তা বাহিনীকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে এবং আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মূলত একটাই বার্তা স্পষ্ট—নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু তার জন্য যেন কোনওভাবেই মানুষের জীবন, আইনশৃঙ্খলা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিপন্ন না হয়।

