Oplus_16908288

ভূমি অধিকার, পরিচয়, ককবরক ভাষা ও সংস্কৃতির সুরক্ষার যে কথা দেওয়া হয়েছিল, তা কি এবার সত্যি রূপ নেবে, নাকি পাহাড়কে অপেক্ষা করতে হবে আরও দীর্ঘ সময়? এই বিলম্বের প্রভাব কি পড়তে চলেছে আসন্ন পুর নির্বাচনে?

ডেস্ক রিপোর্টার,২৮ অক্টোবর।।
     ভিলেজ কমিটি নির্বাচন পার হতেই পাহাড়ে আবার শুরু নতুন সমীকরণ! প্রশ্ন উঠছে—কবে বাস্তবায়িত হবে ঐতিহাসিক ‘ত্রিপ্রাসা অ্যাকর্ড’?প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এক মাসের সময়সীমার। কিন্তু দিন ঘনিয়ে এলেও বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ সামনে না আসায় পাহাড়জুড়ে এখন অপেক্ষা আর হাজারো কৌতূহল।
ভূমি অধিকার, পরিচয়, ককবরক ভাষা ও সংস্কৃতির সুরক্ষার যে কথা দেওয়া হয়েছিল, তা কি এবার সত্যি রূপ নেবে, নাকি পাহাড়কে অপেক্ষা করতে হবে আরও দীর্ঘ সময়? এই বিলম্বের প্রভাব কি পড়তে চলেছে আসন্ন পুর নির্বাচনে?

    পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল ঐতিহাসিক ত্রিপ্রাসা অ্যাকর্ড। চুক্তির সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল দ্রুত পদক্ষেপের। কিন্তু ভিলেজ কমিটি নির্বাচন মেটার পর থেকেই উঠতে শুরু করেছে একাধিক প্রশ্ন।
       এক মাসের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা প্রায় শেষ হতে চললেও বাস্তবায়নের রূপরেখা ঠিক কী, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। ফলে চুক্তি ঘিরে যে প্রত্যাশার সুর জেগেছিল পাহাড়ের কোণায় কোণায়, সেখানে এখন দানা বাঁধছে ক্ষোভ ও অপেক্ষা।পরিস্থিতি সামাল দিতে অবশ্য এগিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর মানিক সাহা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ত্রিপ্রাসা অ্যাকর্ড বাস্তবায়নের বিষয়টি তিনি সরাসরি তুলে ধরবেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে।কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় কি ঝুলে থাকবে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বহু প্রতীক্ষিত এই দাবি? নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সাথে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ব্যবধান দিন দিন যত বাড়ছে, পাহাড়ের সমীকরণও তত জটিল হয়ে উঠছে।
সে যাই হোক,ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের পর পাহাড়ের রাজনীতি নতুন এক মোড় নিয়েছে। আর ঠিক এই সময় দাঁড়িয়েই সামনে কড়া নাড়ছে পুর নির্বাচন। ত্রিপ্রাসা অ্যাকর্ড বাস্তবায়নে বিলম্বের এই জট কি আসন্ন পুর নির্বাচনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে? ভূমির অধিকার আর পরিচয় সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি কি শুধুই নির্বাচনী হাতিয়ার হয়ে থাকবে, নাকি সরকার দ্রুগ পদক্ষেপ নেবে—এখন নজর সেদিকেই।প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তবতার এই দূরত্বের সমাধান কীভাবে হয়, আর তার প্রভাব রাজ্য রাজনীতিতে কতটা পড়ে, সেটাই এখন দেখার।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *