আগরতলা, ২৯ অক্টোবর।।

মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা আজ বলেছেন যে, আগরতলা চা নিলাম কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে এই উদ্যোগ চা উৎপাদনকারীদের ন্যায্য মূল্য পেতে, পরিবহন খরচ কমাতে এবং রাজ্যের চা শিল্পকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।

আগরতলার গুর্খাবস্তির পণ্ডিত নেহেরু কমপ্লেক্সে ত্রিপুরার প্রথম চা নিলাম কেন্দ্র উদ্বোধনকালে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, সংকটে থাকা চা বাগানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং শ্রমিক ও ক্ষুদ্র চা চাষীদের জীবিকার উন্নয়নে রাজ্য সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

আজকের এই নিলাম কেন্দ্র (অকশন সেন্টার) স্থাপন ত্রিপুরার অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন, যা ত্রিপুরার ইতিহাসে লেখা থাকবে।

তিনি এই সাফল্য অর্জনকে সরকার, বিভিন্ন দপ্তর এবং অন্যান্য অংশীদারদের যৌথ প্রচেষ্টার ফল হিসেবে উল্লেখ করে একে ‘টিম ত্রিপুরা’র স্বপ্নপূরণ হিসেবে বর্ণনা করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বড় স্বপ্ন দেখা এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপায়নের আহ্বানের কথা স্মরণ করে ডাঃ সাহা বলেন, রাজ্য সরকারের নেওয়া বেশ কিছু উন্নয়নমূলক উদ্যোগ এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের মাটি ও জলবায়ু মানসম্পন্ন চা উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত অনুকূল এবং ত্রিপুরা জাতীয়ভাবে চা উৎপাদনে তৃতীয় ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, এই রাজ্য বার্ষিক প্রায় ৭০ থেকে ১০০ লক্ষ কেজি চা উৎপাদন করে, যেখানে প্রায় ৫৪টি চা বাগান এবং প্রায় ২,০০০ থেকে ২,৮০০ ক্ষুদ্র চা চাষী এই শিল্পের সাথে যুক্ত।

মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরো বলেন, ২০১৮ সাল থেকে সরকার চা বাগানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জন্য নানা সুবিধা প্রসারিত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও কল্যাণের নানা উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত। সরকার সংকটাপন্ন চা বাগানগুলোকে আরও উৎপাদনশীল এবং টেকসই অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, লক্ষ্য শুধু চা উৎপাদন বাড়ানো নয়, বরং হাজার হাজার পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। আগে ত্রিপুরার চা নিলাম ও বিক্রয়ের জন্য প্রধানত কলকাতা ও গুয়াহাটিতে পাঠানো হতো, যার ফলে পরিবহন খরচ বেশি হতো এবং অর্থ পেতে বিলম্ব হতো। এই নতুন কেন্দ্রটি রাজ্যের ভেতরেই নিলামের সুবিধা প্রদান করে এসব সমস্যার সমাধান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ই-নিলাম চালু করার ফলে স্বচ্ছতা বাড়বে, ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমবে। এই সুবিধাটি স্থানীয় উৎপাদকদের সাথে দেশের বড় চা রপ্তানিকারক ও প্যাকেজিং কোম্পানিগুলোর সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করবে।”

তিনি আরও জানান, পরীক্ষা কেন্দ্র, গুদামজাতকরণ এবং অন্যান্য সহায়ক অবকাঠামোর প্রাপ্যতার কারণে পরিবহন, সংরক্ষণ এবং নমুনা পরীক্ষার খরচ কমবে।

অনুষ্ঠানে শেয়ার করা তথ্যের উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগের ফলে প্রতি কেজি চায়ে প্রায় ৩ থেকে ৬ টাকা সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া পুরো বিক্রয় প্রক্রিয়া, যা আগে প্রায় ৪৪ দিন সময় নিত, তা প্রায় ৪০ শতাংশ কমে আসবে।

মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, ভালো দাম পেলে চাষীরা চায়ের মান উন্নত করতে, উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করতে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ত্রিপুরা চায়ের ব্র্যান্ডিং শক্তিশালী করতে আরও বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান সমীর রঞ্জন ঘোষ, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, টি বোর্ড অফ ইন্ডিয়ার উত্তর পূর্বাঞ্চলের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অরুণিতা ফুকন যাদব, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের ডিরেক্টর ড. দীপক কুমার, ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগমের রাজেশ কুমার দাস সহ অন্যান্য পদাধিকারীগণ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *