ডেস্ক রিপোর্টার,৩১ অক্টোবর।।
“গণতন্ত্র বাঁচাও অরাজকতা হাটাও”- এই কর্মসূচির মাধ্যমে আসন্ন পুরো ভোটের প্রাকলগ্নে শহরে শক্তি প্রদর্শন করেছে রাজ্যের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি। শনিবারের এই সমাবেশকে ঐতিহাসিক বলে আখ্যা দিয়েছেন ভাজপা নেতৃত্ব। এটাও বাস্তব স্মরণাতীত কালের মধ্যে শহরে এতো বড় জনসভা করে নি বিজেপি। আসন্ন পুর ভোটের আগে এই সমাবেশ বিজেপির নেতা – কর্মীদের মানসিক ভাবে কয়েক গুণ চাঙ্গা করেছে। একই ভাবে বিরোধী কংগ্রেস – সিপিআইএম শিবিরে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। সব মিলিয়ে প্রদেশ বিজেপির এই সমাবেশ আসন্ন পুর ভোটে বিজেপির বড় সাফল্যের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপির সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার দেব, প্রদেশ বিজেপির সভাপতি অভিষেক দেবরায়, প্রদেশ বিজেপির প্রভারী মৃগাঙ্ক দেও বর্মন, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক সহ রাজ্য মন্ত্রিসভার সমস্ত সদস্য সহ বিজেপির প্রদেশ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন এই সমাবেশে। তাছাড়া দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্ব সহ সাধারণ কর্মী – সমর্থকদের ভিড়ে গণতন্ত্র বাঁচাও অরাজকতা হাটাও”- কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন হয়।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা তাঁর ভাষণে বলেন, এই বিপুল জনসমাগম প্রমাণ করে গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি জনগণের মধ্যেই নিহিত। ত্রিপুরার মানুষ শান্তি, স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও উন্নয়নের পক্ষে তাঁদের দৃঢ় প্রত্যয় স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা, অরাজকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং উন্নয়নের ধারাকে আরও শক্তিশালী করার সংকল্প নিয়ে আমাদের এই পথচলা অব্যাহত থাকবে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আগরতলায় ঐতিহাসিক ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ পদযাত্রায় উপচে পড়া জনসমুদ্র এক বিশেষ বার্তা বহন করছে।মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ভারতীয় জনতা পার্টি এবং দেশের যশস্বী প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধেয় শ্রী নরেন্দ্র মোদী জী-র প্রতি মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসারই প্রতিফলন।গণতন্ত্রের পক্ষে, অরাজকতার বিরুদ্ধে জনতার এই ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর আজ আগরতলার রাজপথে স্পষ্ট।

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব সরাসরি বাম – কংগ্রেসকে হুঙ্কার দিয়ে বলেন, কোনো কাজ হবে না। মানুষ তাদের অনেক আগেই ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। আসন্ন পুর নির্বাচনে ২১- র পুনরাবৃত্তি হবে বলেই ভবিষ্যত বানী করেছেন বিপ্লব। প্রদেশ বিজেপির সভাপতি অভিষেক দেবরায়ও একই সুরে বক্তব্য রাখেন।

জনসভার মঞ্চ থেকে অন্যান্য নেতৃত্ব রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক অধিকার, আইনশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক অরাজকতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বক্তব্য রাখেন। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পাশাপাশি দলীয় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাও উঠে আসে নেতৃত্বের
বক্তব্যে।শুক্রবার রাজধানীতে ইন্ডিয়া জোট সভা করে।২৪- ঘণ্টার মধ্যেই বিজেপির এই ঐতিহাসিক সমাবেশ। সব মিলিয়ে আসন্ন পুর ভোট কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপের পারদ চড়ছে রাজধানী আগরতলায়। ভোট আবহের মোড়কে রাজ্যের আম জনতা।

