ডেস্ক রিপোর্টার ৩০ অক্টোবর।।
       অবশেষে ত্রিপুরার পুরনিগম, পুর পরিষদ এবং নগর পঞ্চায়েতগুলির সাধারণ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ত্রিপুরা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন পুর এলাকায় নির্বাচনী প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে খোয়াই পুর পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে এখন থেকেই রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে কৌতূহল।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগরতলা পুরনিগমের পাশাপাশি ধর্মনগর, কৈলাসহর, কুমারঘাট, আমবাসা, খোয়াই, তেলিয়ামুড়া, রানিরবাজার, মোহনপুর, বিশালগড়, মেলাঘর, উদয়পুর, শান্তিরবাজার ও বেলোনিয়া পুর পরিষদে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি পানিসাগর, কমলপুর, জিরানিয়া, সোনামুড়া, অমরপুর, সাব্রুম ও বিশ্রামগঞ্জ নগর পঞ্চায়েত এলাকাতেও নির্বাচন হবে।
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৬ নভেম্বর। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে। তবে সরকারি ছুটির দিনে মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে না।
এরপর ৭ নভেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থীরা চাইলে ১০ নভেম্বরের মধ্যে তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন। সবশেষে আগামী ২৭ নভেম্বর রাজ্যজুড়ে নির্ধারিত পুর এলাকাগুলিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। কোনও কারণে পুনর্নির্বাচন বা নতুন করে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হলে তার জন্য ৩০ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আগামী ২ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হবে। সম্পূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া আগামী ৪ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
খোয়াই পুর পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি সম্ভাব্য নির্দল প্রার্থীদের মধ্যেও প্রস্তুতি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই প্রার্থী বাছাই, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণের বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে।
তবে এবারের নির্বাচনে খোয়াই পুর পরিষদের ১৫টি ওয়ার্ডে কারা প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, কোন রাজনৈতিক দল কতগুলি আসনে প্রার্থী দেবে এবং নির্দল প্রার্থীদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, সেদিকেই এখন নজর খোয়াইবাসীর।
এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনী ময়দানে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিশ্রুতি ও প্রচারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নাগরিক পরিষেবা, পানীয় জল, রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা এবং সার্বিক উন্নয়নের প্রশ্ন কতটা গুরুত্ব পায়।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *