স্পোর্টস ডেস্ক, ২৫ আগস্ট।।
হাড্ডা হাড্ডি লড়াই। ১২০ মিনিট দুরন্ত লড়াই করার পর ম্যাচের ফয়সালা হয় টাই ব্রেকারে। তাতে বাজিমাত করলো কল্যাণ সমিতি। প্রথমবার শিল্ড ঘরে তুল্য শহর দক্ষিণের ওই ক্লাবটি। গোলরক্ষক জ্যাকসন সিং এর চৌরা হাতে ভর দিয়ে। গেলবারের পর এবার ও খেতাব হাতছাড়া হলো ময়দানের ঐতিহ্যবাহী এগিয়ে চলো সংঘের। হারলেও সুজিত হালদারের ছেলেরা দুরন্ত খেলা উপহার দিয়েছেন। উমাকান্ত মিনি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হাই ভোল্টেজ ফাইনাল ম্যাচে কল্যাণ সমিতি টাই ভেঙ্গে পরাজিত করে এগিয়ে চলো সংঘ কে। ম্যাচের ফলাফল ৫-৪। ফাইনাল ম্যাচ হওয়া য় কোন দলই শুরু থেকে আক্রমাত্মক ফুটবল খেলেননি। মূলত কাউন্টার অ্যাটাকের উপর নির্ভর করে আক্রমণের ছক কষে ছিলেন দু’দলের ফুটবলাররা। কোন দলের ফুটবলার রায় মাঝমাঠ তেমনভাবে নিজেদের দখলে নিতে পারেননি। কয়েক হাজার ফুটবল প্রেমীদের উপস্থিতিতে দুইদলের ফুটবলাররাই এদিন শুরু থেকে আক্রমাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। গতি, শক্তি এবং দক্ষতা – তিন বিভাগেই দুদল এক জায়গায় ছিল। ফলে শুরু থেকেই ম্যাচ হয়ে ওঠে উপভোগ্য। ফাইনাল ম্যাচ হল ফাইনাল ম্যাচের মতোই। তবে ম্যাচ যত গড়িয়েছে ততই দু’দলের ফুটবলাররা চড়া মেজাজ ে খেলতে থাকেন।নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়েও ম্যাচের ফয়সলা না হওয়ায় শুরু হয় টাইব্রেকার। তাঁতেই বাজিমাত করে আবু তাহেরের দল । মোক্ষম সময়ে গোলরক্ষক জ্যাকসন সিং একটি শট রেখে দিয়ে কল্যাণ সমিতিকে জয় এনে দিতে মুখ্য ভূমিকা নেন। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে রেফারি গণেশ শাহ একটি সিদ্ধান্তকে নিয়ে মাঠে উত্তেজনা দেখা দেয়। ওই সময় লাল কার্ড দেখানো হয় কল্যাণ সমিতির মোহাম্মদ রোহিত কে। ওই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি কল্যাণ সমিতির ফুটবলার থেকে কর্তারা। না না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠের পাশে বসে ছিলেন ফুটবলাররা। প্রায় ২৭ মিনিট ধরে বন্ধ থাকে খেলা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং মাঠে উপস্থিত ফুটবলপ্রেমীদের কথা মাথায় রেখে মন্ডল সভাপতি শ্যামল দে পুনরায় খেলা শুরু করার জন্য দলীয় ফুটবলারদের নির্দেশ দেন। কল্যাণ সমিতির ফুটবলারদের দাবি মেনেই প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইম থেকে গণেশের পরিবর্তে ম্যাচ পরিচালনা করেন বাজি টিস্যু। খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায়, রাজ্য ফুটবল সংস্থার সভাপতি প্রণব সরকার, সচিব অমিত চৌধুরী সহ অন্যান্যকর্তারা।

