খোয়াই ডেস্ক, ২৬ এপ্রিল।।
      তিনদিন যাবত প্রায় বিদ্যুৎহীনতায় খোয়াই। খোয়াই জেলা হাসপাতালও বিদ্যুৎহীনতায় বিপর্যয়ের মুখে। ভ্যাকসিন, টক্সাইড সহ জীবনদায়ী ওষুধ প্রশ্নের মুখে। খোয়াইয়ের বিদ্যুৎ পরিষেবা যেন এক দুর্বিষহ যন্ত্রণার নাম। শনিবার সারাদিন বিদ্যুৎহীন থাকার পর আজ রবিবার সন্ধ্যার সামান্য ঝড়ে পুনরায় অন্ধকারে ডুবে গেল গোটা খোয়াই শহর ও তার সংলগ্ন এলাকা। খবর লেখা পর্যন্ত সুভাষপার্ক এলাকা বাদ দিয়ে খোয়াইয়ের জনজীবন বর্তমানে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে যেখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ অপরিহার্য, সেখানে খোয়াইয়ের এই ধুঁকতে থাকা পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন চরমে।


অভিযোগ উঠেছে যে, দপ্তরের পক্ষ থেকে এজেন্সির মাধ্যমে খামখেয়ালিভাবে কাজ চালানো হচ্ছে। গত শনিবার সামান্য ‘জিও ফিটিংস’ করতে গিয়ে ২-৩ ঘণ্টার কাজ সারাদিন ধরে চালানো হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। বর্ষা শুরুর আগেই নিয়ম করে প্রতি বছর খোয়াইবাসীকে এই দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। বিশেষ করে ছুটির দিন বা রবিবারে সারাইয়ের নামে সারাদিন বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা এখন দপ্তরের দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, সন্ধ্যার দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলেও লাইনে ত্রুটির কারণে বারংবার তা বিচ্ছিন্ন হতে থাকে, যা স্বাভাবিক হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যায়।


বিদ্যুৎহীনতার এই ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে খোয়াই জেলা হাসপাতালেও। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের ফ্রিজে সংরক্ষিত বিভিন্ন মূল্যবান ও জীবনদায়ী ওষুধ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যেখানে মুমূর্ষু রোগীদের জীবন রক্ষায় বিদ্যুতের ভূমিকা অনস্বীকার্য, সেখানে জেলা হাসপাতালের এই পরিস্থিতি প্রশাসনের উদাসীনতাকেই প্রকট করে তুলেছে।
    জনসাধারণের অভিযোগ, দপ্তরের পরিষেবায় কোনো আধুনিকীকরণ নেই এবং পরিকাঠামোর মানোন্নয়নেও কোনো হেলদোল দেখা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ দপ্তরের এই চরম অব্যবস্থার বিরুদ্ধে শহরবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ পুঞ্জীভূত হচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর জনবিক্ষোভের আশঙ্কা প্রকাশ করছে ওয়াকিবহাল মহল।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *