ডেস্ক রিপোর্টার,৮ অক্টোবর।।
আগরতলা পুর নিগমের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড। এটা বাধারঘাট বিধানসভার অন্তর্ভুক্ত। এই ওয়ার্ডটি বর্তমানে তফসিলি জাতি সংরক্ষিত। কর্পোরেটর বাপি দাস। যিনি বিজেপির এসসি মোর্চার রাজ্য সভাপতি। অভিযোগ, এই ওয়ার্ডের সংরক্ষণ নিয়ে চলছে বড় জালিয়াতি! তথ্য অনুযায়ী, এই ওয়ার্ডে এসসি সম্প্রদায়ের লোকসংখ্যা ৩০ শতাংশ। বাধারঘাটে এমন আরও দুইটি ওয়ার্ড রয়েছে যেখানে এসসি সম্প্রদায়ের লোকসংখ্যা ৩৪ ও ৩৭ শতাংশ। কিন্তু এই ওয়ার্ডগুলি সাধারণ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। তাহলে প্রশ্ন আসছে, বাপি দাসের ওয়ার্ড কেন এসসি সংরক্ষিত থাকবে? এই ওয়ার্ডের অন্যান্য জাতি – গোষ্ঠীর লোকজনের দাবি, আসন্ন পুর নির্বাচনে আসনটিকে সাধারণ ক্যাটাগরির জন্য করতে হবে। কারণ এই ওয়ার্ডে সাধারণ ক্যাটাগরির মানুষ আছেন ৭০ শতাংশ। এক সময় ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডটি ( পূর্বের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড) ছিলো সাধারণ ক্যাটাগরির। তাহলে কার স্বার্থে ঠকানো হচ্ছে সাধারণ ক্যাটাগরির মানুষকে?
যদিও রাজ্যের পুর প্রশাসন আগরতলা পুর নিগমের নির্বাচনকে সামনে রেখে ওয়ার্ড গুলির সংরক্ষণ নিয়ে তালিকা প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গিয়েছে নিগমের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডটিকে তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত( উন্মুক্ত ) রেখেছে। অর্থাৎ এই আসন থেকে এসসি সম্প্রদায়ের পুরুষ বা মহিলা যে কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
জনমনে প্রশ্ন উঠছে, ৩০ শতাংশ এসসি সম্প্রদায়ের লোকজন থাকা সত্ত্বেও কেন ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডকে পুনরায় তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত করা হলো? ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের বক্তব্য, এই ওয়ার্ডে পুনরায় টিকিট পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন কর্পোরেটর বাপি দাস। এক্ষেত্রে কাজ করছে বাধারঘাটের বিধায়িকা মিনা সরকারের অপত্য স্নেহ। সম্প্রতি আগরতলা পুর প্রশাসনকে বাধারঘাট বিধানসভার সাতটি ওয়ার্ডের সংরক্ষণ নিয়ে রিপোর্ট জমা করেছেন বিধায়িকা মিনা সরকার। ৩০ শতাংশ এসসি সম্প্রদায়ের বসবাসকারী এই ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডটিকে মিনা সংরক্ষণের আওতায় রেখে দিয়েছেন। অবাক করার মতো বিষয় বাধারঘাট বিধানসভার অন্তর্ভুক্ত ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডটিতে ৩৩ শতাংশ এসসি সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করলেও, এই ওয়ার্ডটিকে সাধারণ ক্যাটাগরির জন্য রেখে দিয়েছেন বিধায়িকা মিনা সরকার। সংরক্ষণের এই অঙ্ক থেকে পরিষ্কার মিনা সরকার কার স্বার্থ রক্ষার্থে নিগমের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডটিকে এসসি সংরক্ষিত রেখেছেন।

