নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র কুমার বসুকে ভোটার তালিকার চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন অর্থাৎ এসআইআর প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত একটি শুনানির জন্য ভারতের নির্বাচন কমিশন তলব করেছে। তা নিয়ে দেশ জুড়ে নতুন করে বেঁধেছে বিতর্কের দানা। এই ইস্যুতে তীব্র সুনামি শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ডেস্ক রিপোর্টার, ২০ জানুয়ারি।।
                  হায় রে! কোন দেশে আছি আমরা? শেষ পর্যন্ত নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবারের সদস্যদের দিতে হবে ভারতীয় হওয়ার প্রমাণ। ছিঃ ছিঃ। এটা গোটা বাঙালির লজ্জা, লজ্জা গোটা দেশের। যদিও এর সপক্ষে আইনি যুক্তি দেখিয়েছে দেশের নির্বাচন কমিশন।
      নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র কুমার বসুকে ভোটার তালিকার চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন অর্থাৎ এসআইআর প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত একটি শুনানির জন্য ভারতের নির্বাচন কমিশন তলব করেছে। তা নিয়ে দেশ জুড়ে নতুন করে বেঁধেছে বিতর্কের দানা। এই ইস্যুতে তীব্র সুনামি শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে পড়ে দেশের নির্বাচন কমিশন চন্দ্র কুমার বসুকে এসআইআর প্রক্রিয়াতে তলবের কারণ ব্যাখা করে।

।চন্দ্র কুমার বসু।

নির্বাচন কমিশন স্পষ্টি করণ দিয়ে জানিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়া একটি রুটিন মাফিক পদ্ধতির। তার অংশ হিসাবে চন্দ্র কুমার বসুকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রথম ধাপে, বুথ-স্তরের কর্মকর্তারা ভোটারদের মধ্যে গণনা ফর্ম বিতরণ করেন, যা পূরণ করে ফেরত দিতে হয়। এই ফর্মগুলোর উপর ভিত্তি করে একটি খসড়া ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়। যদি কোনো ফর্মে কোনো অসঙ্গতি, বাদ পড়া বা তথ্যের গরমিল পাওয়া যায়, তবে বিস্তারিত যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট ভোটারকে শুনানির জন্য নোটিশ জারি করা হয়।


নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, “ চন্দ্র কুমার বসুকে  তলব করা হয়েছিল, কারণ তার গণনা ফর্মের ‘সংযোগ’ অংশটি ফাঁকা রাখা হয়েছিল। এই অংশে ভোটারকে জানাতে হয়, তার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল কিনা? যদি থাকে, তবে তাদের ভোটার ডেটাবেসে তালিকাভুক্ত পরিবারের সদস্যদের   বিবরণ প্রদান করতে হয়। যেহেতু চন্দ্র কুমার বসুর ফর্মে এই তথ্য ছিলো না, তাই তাঁর নামে শুনানির নোটিশ জারি করা হয়েছিল।” এই বিতর্কের প্রতিক্রিয়ায় কমিশন  বলেছে, কোনো ব্যক্তির পটভূমি বা বংশপরিচয় নির্বিশেষে কারও জন্য কোনো বিশেষ বিধান বা ব্যতিক্রম নেই।  “আইনের চোখে সব ভোটার সমান,”। চন্দ্র কুমার বসুকে দেওয়া নোটিশটি সম্পূর্ণরূপে ছিলো পদ্ধতিগত । নাগরিকত্বের প্রশ্নের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।


প্রসঙ্গত, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র। চন্দ্র কুমার বসু  ২০১৬ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন।এবং ২০১৬ – র পশ্চিম বাংলার  বিধানসভা নির্বাচন ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দুবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।


কিন্তু তিনি জয়ী হতে পারেননি। শেষে ২০২৩ সালে তিনি বিজেপি থেকে সরে যান। তখন তিনি বলেছিলেন, জাতীয়তাবাদী নেতা সুভাষ চন্দ্র বসুর আদর্শ প্রচারে বিজেপি তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারে নি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *