আসন্ন ভিলেজ নির্বাচন নিয়ে সিপিএম তথা বামফ্রন্টের সম্ভাব্য রণকৌশল কি হতে পারে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল? তেমনি রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মত।তবে বলা যায়,সাম্প্রতিক এডিসি নির্বাচনে ভোটব্যাংকে ধস এবং খাতা খুলতে না পারার পর,সিপিএমের সামনে এই ভিলেজ কমিটি নির্বাচন শুধুই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
ডেস্ক রিপোর্টার, ১৮ মে।।
রাজ্য রাজনীতিতে এডিসি নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক দলগুলোর পাখির চোখ এখন আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে। সাম্প্রতিক এডিসি নির্বাচনে তিপ্রামথা এবং বিজেপির দাপটের পর, পাহাড়ে নিজেদের জমি পুনরুদ্ধার করতে বামদল নতুন করে রণকৌশল সাজাচ্ছে।
আসন্ন ভিলেজ নির্বাচন নিয়ে সিপিএম তথা বামফ্রন্টের সম্ভাব্য রণকৌশল কি হতে পারে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল? তেমনি রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মত।তবে বলা যায়,সাম্প্রতিক এডিসি নির্বাচনে ভোটব্যাংকে ধস এবং খাতা খুলতে না পারার পর,সিপিএমের সামনে এই ভিলেজ কমিটি নির্বাচন শুধুই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
পাহাড়ে নিজেদের পুরানো দুর্গ ফিরে পেতে বামেদের রণকৌশল মূলত কয়েকটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে আবর্তিত হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, তৃণমূল স্তরের জনসংযোগ ও বুথভিত্তিক পুনর্গঠন। বড় বড় জনসভার চেয়ে এবার বামেদের প্রধান লক্ষ্য হবে ‘হাউস টু হাউস’ বা ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচার। বিগত কয়েক বছরে গ্রামীণ ও পাহাড়ি এলাকায় দলের যে সাংগঠনিক ফাটল ধরেছে, তা মেরামতের জন্য নিচু স্তরের কর্মীদের সক্রিয় করার কৌশল নেওয়া।
এছাড়া এডিসি নির্বাচনে তিপ্রামথা ও বিজেপি আলাদা ভাবে লড়াই করলেও এডিসি-র বাইরে তাদের জোট সরকার চলছে। বামেরা পাহাড়ি ভোটারদের বোঝানোর চেষ্টা করবে যে— শাসক দল এবং মথার এই রাজনীতি আসলে সাধারণ জনজাতিদের বিভ্রান্ত করার কৌশল।

তৃতীয়ত, এডিসি এলাকায় দীর্ঘদিনের বকেয়া উন্নয়ন, কাজের অভাব, রেগার কাজ না পাওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধিকে প্রচারের মূল বিষয়বস্তু করবে বামেরা। “উন্নয়নের নামে বঞ্চনা”— এই স্লোগানকে সামনে রেখে এডিসি-র ব্যর্থতাগুলো তুলে ধরতে বামেরা মরিয়া।চতুর্থত,প্রবীণ নেতৃত্বের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পাহাড়ি যুব সমাজকে টানতে স্থানীয় স্তরে লড়াকু ও তরুণ জনজাতি ছেলেমেয়েদের ভিলেজ কমিটির প্রার্থী তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়া বামেদের অন্যতম প্রধান স্ট্র্যাটেজি হতে পারে।
বিগত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভিলেজ কমিটি নির্বাচনেও অঘোষিত বা স্থানীয় স্তরে আসন সমঝোতা করতে পারে বাম-কংগ্রেস। যেখানে যে দল শক্তিশালী, সেখানে অন্য দল তাকে সমর্থন দিয়ে বিজেপি-মথা বিরোধী ভোটকে এককাট্টা করার চেষ্টা করতে পারে।উদ্দেশ্য বিরোধী ভোট যাতে ভাগ হয়ে শাসক শিবিরের সুবিধা না করে দেয়, তার জন্য কৌশলগতভাবে প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সামগ্রিকভাবে, শাসক জোটের ডামাডোল এবং জনজাতি আবেগের বাইরে গিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার ইস্যুতেই এই নির্বাচনে কামব্যাক করতে চাইছে বামেরা।বাকিটা সময়ই বলবে।

