মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়ার পর সিদ্দারামাইয়াকে দিল্লিতে এনে পুনর্বাসন দেওয়ার চেষ্টা করেছিল কংগ্রেস হাইকমান্ড। তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্ষীয়ান এই কংগ্রেস নেতা হাই – কমান্ডের প্রস্তাব  ফিরিয়ে দিয়েছেন। আর তাঁর এই সিদ্ধান্তেই নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক অলিন্দে।

ডেস্ক রিপোর্টার , ২৮ মে ।।
         কর্নাটকের রাজনীতিতে বিরাট রদবদল। শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত ভাবেই ইস্তফা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। তাঁর জায়গায় দক্ষিণের এই রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন কংগ্রেসের’ ক্রাইসিস ম্যানেজার হিসেবে পরিচিত ডিকে শিবকুমার।বৃহস্পতিবার কর্ণাটকের লোক ভবনে  রাজ্যপালের সচিবের হাতে ইস্তফা পত্র তুলে দিয়েছেন সিদ্দারামাইয়া। বেশ কিছু দিন ধরে চলা টানাপোড়েনের পর অবশেষে দাক্ষিণাত্যের এই রাজ্যে হাত শিবিরে শতাব্দী প্রাচীন ক্ষমতার হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে চলেছে।
         প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই সিদ্দারামাইয়া এবং ডিকে শিবকুমারের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে দড়ি টানাটানি চলছিল। সেই সময় হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপে রফাসূত্র মিলেছিল। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আড়াই বছর করে ক্ষমতা ভাগাভাগির যে অলিখিত ‘৫০:৫০ ফর্মুলা’ দিল্লি তৈরি করেছিল, এটি তারই প্রতিফলন।
    এদিকে মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়ার পর সিদ্দারামাইয়াকে দিল্লিতে এনে পুনর্বাসন দেওয়ার চেষ্টা করেছিল কংগ্রেস হাইকমান্ড। তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্ষীয়ান এই কংগ্রেস নেতা হাই – কমান্ডের প্রস্তাব  ফিরিয়ে দিয়েছেন। আর তাঁর এই সিদ্ধান্তেই নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক অলিন্দে।
          রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে,রাজ্যসভার প্রস্তাব ফিরিয়ে সিদ্দারামাইয়া বুঝিয়ে দিলেন, তিনি দিল্লির রাজনীতিতে যেতে অনিচ্ছুক। কর্ণাটকের রাজ্য রাজনীতিতেই নিজের রাশ বজায় রাখতে চান তিনি। এর ফলে আগামী দিনে শিবকুমার সরকারের ওপর তাঁর কতটা নিয়ন্ত্রণ থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
         কংগ্রেস সূত্রে খবর, দ্রুতই বিধায়ক দলের বৈঠক ডেকে ডিকে শিবকুমারকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলনেতা নির্বাচন করা হবে। তার পরেই রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন তিনি। সব ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহের শেষেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন ডিকে শিবকুমার। তবে লোকসভা নির্বাচনের পর কর্ণাটকের এই মেগা রদবদল জাতীয় রাজনীতিতেও কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকে কতটা প্রভাবিত করে, এখন তাই দেখার।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *