তেলিয়ামুড়া ডেস্ক, ৭ জুন।।
রাজ্যে মেডিক্যাল হাব গড়ে তোলার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন।কিন্তু একাংশ চিকিৎসক সহ স্বাস্থ্যকর্মী দের হেয়ালিপনার কারনে কোন কোন জায়গায় স্বাস্থ্য পরিষেবা তলানিতে থেকেছে।শনিবার এমনই চিত্র ধরা পড়েছে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে।এদিন সমস্ত অভিযোগের বাস্তব চিত্র খতিয়ে দেখতে আচমকাই হাসপাতালে পরিদর্শনে যান তেলিয়ামুড়ার বিধায়িকা তথা রাজ্য বিধানসভার মুখ্যসচেতক কল্যাণী সাহা রায়। সেখানে গিয়ে যা দেখলেন, তাতে কার্যত চোখ কপালে ওঠার জোগাড়!
সারপ্রাইজ ভিজিটের সময় বিধায়িকা দেখেন, হাসপাতালের ওটি-র দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক সমীর দেববর্মা সহ একাধিক কর্মী কোনও প্রকার অনুমোদিত ছুটি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে শৃঙ্খলার চরম অভাব এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এখানেই শেষ নয়, হাসপাতালের রোগী কল্যাণ তহবিলের প্রায় ৫৬ লক্ষ টাকা খরচ না হয়ে ফেরত চলে যাওয়ার বিষয়টি বিধায়িকার নজরে আসে। সরকারি টাকা থাকা সত্ত্বেও কেন পরিকাঠামোর উন্নয়ন হলো না, তা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ ও ভ্যাকসিন পাচারের গুরুতর অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কল্যাণী সাহা রায়।
হাসপাতালের সার্বিক অরাজকতা দেখে ক্ষুব্ধ বিধায়িকা ঘটনাস্থল থেকেই স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডাঃ দেবশ্রী দেববর্মার সঙ্গে দূরভাষে কথা বলেন এবং গোটা পরিস্থিতি বিস্তারিত জানান। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলার বিষয়টি তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহার নজরেও আনবেন।
শনিবারের এই আকস্মিক পরিদর্শনে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালের যে কঙ্কালসার চেহারা সামনে এসেছে, তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। একদিকে হাসপাতালের উন্নয়নে বিধায়িকার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, অন্যদিকে কিছু কর্মী ও আধিকারিকের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ— সব মিলিয়ে প্রশ্নের মুখে হাসপাতালের বর্তমান পরিচালন ব্যবস্থা।

