অভিযোগ উঠেছে, এই খালি জায়গার ওপর নজর পড়ে বাজার কমিটির একাংশের। মহারাজগঞ্জ বাজার সবজি খুচরা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক নকুল দেবনাথ, পাইকারি কমিটির সম্পাদক বিকাশ সাহা এবং খান্না মার্কেটের সহ-সভাপতি হরিহর দেবনাথ—এই তিনজন মিলে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সরকারি জায়গাটি বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ।

ডেস্ক রিপোর্টার, ৭ জুন।।
       রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত মহারাজগঞ্জ বাজারে সরকারি জায়গা বেআইনিভাবে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এল। অভিযোগের তির খোদ বাজার কমিটির দুই প্রভাবশালী সম্পাদক এবং খান্না মার্কেটের এক পদাধিকারীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার বাজার চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। কেন্দ্রীয় কমিটির সময়োচিত হস্তক্ষেপে আপাতত সেখানে অবৈধ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মহারাজগঞ্জ বাজারের সুলভ শৌচালয়ের পেছনে একটি ফাঁকা জায়গা রয়েছে। পূর্বে আগরতলা পুর নিগমের উদ্যোগে গ্র্যান্ডডিউজ ক্লাব  এলাকার কিছু ব্যবসায়ীকে সেখানে অস্থায়ীভাবে বসার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ওই ব্যবসায়ীদের নিজস্ব তৌজি থাকায় তারা পুনরায় নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান। ফলে সুলভ টয়লেটের পেছনের ওই মূল্যবান সরকারি জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে ছিল।
   অভিযোগ উঠেছে, এই খালি জায়গার ওপর নজর পড়ে বাজার কমিটির একাংশের। মহারাজগঞ্জ বাজার সবজি খুচরা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক নকুল দেবনাথ, পাইকারি কমিটির সম্পাদক বিকাশ সাহা এবং খান্না মার্কেটের সহ-সভাপতি হরিহর দেবনাথ—এই তিনজন মিলে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সরকারি জায়গাটি বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ।
   জানা গেছে, ইতিমধ্যেই ওই ফাঁকা জায়গায় দুটি দোকান ঘর তৈরি করে বাজারের কর্মকার দোকানের ব্যবসায়ী উত্তম কর্মকারের কাছে ২০ লক্ষ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া আরও একটি দোকান ঘর ১২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মহারাজগঞ্জ বাজারেরই এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, সরকারি জায়গা বিক্রি করে ৩২ লক্ষ টাকার অবৈধ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এই তিন নেতার বিরুদ্ধে।
রবিবার যখন ওই জমিতে পাকা দালান ঘর তৈরি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখনই বিষয়টি মহারাজগঞ্জ বাজারের কেন্দ্রীয় কমিটির নজরে আসে। কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্ব ও সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ নির্মাণ কাজে বাধা দেন এবং কাজ বন্ধ করে দেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা অবিলম্বে সংবাদমাধ্যমকে খবর দেন।কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের মনে এখন বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—কীভাবে এবং কোন সাহসে সরকারি জায়গা এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হলো? এমনকি জায়গাটি কেনার পর ব্যবসায়ীরা যে তৌজি বা নথিপত্র দেখাচ্ছেন, সরকারি জায়গা হওয়া সত্ত্বেও সেই কাগজ তারা কোথা থেকে এবং কীভাবে পেলেন, তা নিয়েও গভীর রহস্য দানা বেঁধেছে।
এই ঘটনার পেছনে বড় কোনো চক্র বা পুর নিগমের কোনো অসাধু কর্মীর যোগসাজশ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা। এখন দেখার,এই লক্ষ লক্ষ টাকার বাজার কেলেঙ্কারি ও সরকারি জমি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রশাসন ও পুর নিগম কী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *