পুশ ইন নিয়ে কয়েক দিন ধরেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে অনেককে ফেরত নিয়েছে বিএসএফ। এর মধ্যে শূন্যরেখায় আটকে থাকা লোকজন নিয়ে কিছু সময়ের জন্য মানবেতর পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়েছে।
#সমীরণ রায়#
_______________
ঢাকা ডেস্ক,৯ জুন।।
ভারত থেকে যেভাবে লোকজনকে ঠেলে পাঠানো হচ্ছে তা একেবারে গ্রহণযোগ্য নয় মন্তব্য করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, অবৈধ কেউ থেকে থাকলে তাদের পুশ ইন’ নয়, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া মেনে চলুন।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেছেন, যত রকম ডিপ্লোম্যাটিক নর্ম আছে, সেটা আমরা ফলো করছি। আমরা রেগুলারলি তাদেরকে যখনই পুশ ইনের ঘটনা আমাদের কানে আসছে বা আমরা দেখছি, রিপোর্টিং হচ্ছে, আমরা কিন্তু তাদেরকে চিঠি দিচ্ছি। আমরা আশা করব যে, ভারত সরকার, এটা তারা সিরিয়াসলি নেবে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথাযথ মেকানিজম এবং ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে আমাদের এই কাজটি তারা সমাধান করবে। অবৈধ হয়ে পড়া বা কারাবন্দিদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে কূটনৈতিক চ্যানেল মানার আহ্বান জানান শামা ওবায়েদ।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কন্নোয়নের স্বার্থেই তা মানা উচিত মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনোভাবেই এই পুশ ইনের মাধ্যমে যদি তারা করে, তাহলে অবশ্যই সেটা আমাদের জন্য ভালো হবে না। সেটা আমাদের ভারত এবং বাংলাদেশ সম্পর্ক, যেটা আমরা বলি যে, নতুন উচ্চতায় ওঠার চেষ্টা হচ্ছে এবং উনারাও একটা প্যারাডাইম শিফটের কথা বলেন; সে প্যারাডাইম শিফটটা যদি হতে হয়, তাহলে এই কাজগুলা যেই ডিপ্লোম্যাসি আছে, যে বিদ্যমান প্রক্রিয়া আছে, সে প্রক্রিয়াটাই আমাদের দুই দেশে অবলম্বন করা উচিত।
পুশ ইন নিয়ে কয়েক দিন ধরেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে অনেককে ফেরত নিয়েছে বিএসএফ। এর মধ্যে শূন্যরেখায় আটকে থাকা লোকজন নিয়ে কিছু সময়ের জন্য মানবেতর পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়েছে।
লোকজনকে ঠেলে পাঠানোর প্রবণতাকে যে বাংলাদেশ ভালোভাবে নিচ্ছে না তা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, পুশ ইনের কথা আমরা শুনতে পাচ্ছি, যেটা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা বিজিবি, আমাদের বর্ডার গার্ড খুবই শক্তভাবে এটা রেজিস্ট করছে এবং কোনোভাবেই পুশ ইনকে আমরা অ্যালাও করছি না। বাংলাদেশ আর ভারতের মধ্যে একটি ব্যবস্থা আছে, একটা মেকানিজম আছে। এবং সব দেশের সাথে সেই মেকানিজমটা থাকে যে—যখন আমাদের কোনো নাগরিক ইলিগ্যালি কোনো দেশে যায়, নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই করে তাকে ফেরত আনার একটা প্রক্রিয়া আছে, একটা মেকানিজম আছে। যেটা বাংলাদেশও ফলো করে বাংলাদেশের জায়গা থেকে, ভারত ফলো করে ভারতের জায়গা থেকে। সেই মেকানিজমটা ফলো না করে যদি এই পুশ ইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাউকে ঠেলে দেওয়া হয়, সেটা কিন্তু একেবারে গ্রহণযোগ্য না।
ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা ১২ থেকে ১৩টা চিঠি দিয়েছি দিল্লিতে; ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। এবং বিজিবি সজাগ আছে এবং কোনোভাবে এটা আমরা অ্যালাও করছি না।
সম্প্রতি ভারতের চেন্নাই থেকে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ৩৪ জনকে ফিরিয়ে আনার উদাহরণ টেনে শামা ওবায়েদ বলেন, এ রকম বাংলাদেশে যদি ভারতীয় কোনো ইলিগ্যাল সিটিজেন থাকে বা ভারতে যদি বাংলাদেশের কোনো ইলিগ্যাল সিটিজেন থাকে, তাদেরকে ফেরত আনার বা আমাদের ভারতীয়দেরকে ফেরত দেওয়ার একটি মেকানিজম বিদ্যমান আছে। সেই বিদ্যমান মেকানিজমটা, ডিপ্লোম্যাসিটা অবলম্বন করেই ভারতকে আমাদের সাথে কাজ করতে হবে, কথা বলতে হবে। বাংলাদেশও সেটা করবে।এখন পর্যন্ত ভারত সরকারকে দেওয়া ১২-১৩টি চিঠির কোনোটিরই উত্তর না আসার কথাও বলেছেন শামা ওবায়েদ।
পুশ ইনের ঘটনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ‘পুনরুদ্ধার চেষ্টাকে’ ব্যাহত করতে পারে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এভরি ইভেন্ট, এভরি কেস ইজ ডিফ্রেন্ট। একটার সাথে আরেকটা জড়িত না। কিন্তু এই ঘটনাটা যদি বর্ডারে ঘটে, ভারতের সরকার যদি এটা সিরিয়াসলি নেয়, তাহলে আমাদের জন্য সম্পর্কটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অনেক সহজ হবে।

