তেলিয়ামুড়া ডেস্ক, ৮ জুলাই।।
টানা দু-তিন দিনের প্রবল বর্ষণে ফুলেফেঁপে উঠেছে খোয়াই নদীর জল। নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় তেলিয়ামুড়া পুরপরিষদ এলাকার নদীতীরবর্তী বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে ইতিমধ্যেই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নদীর জল ঢুকে পড়েছে একাধিক পরিবারের বসতঘরে। ফলে বন্যার আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।তেলিয়ামুড়া পুরপরিষদের শান্তিনগর ,দশমীঘাট,নেতাজি নগর,তৃষাবাড়ি, মোহরছড়া এবং কল্যাণপুরের নদীতীরবর্তী
এলাকাগুলোতে ইতিমধ্যেই জল প্রবেশ করেছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে তেলিয়ামুড়া পুরপরিষদের চেয়ারম্যান রূপক সরকার এবং ডেপুটি সিইও প্রদীপ কুমার সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করেন। তাঁরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

অন্যদিকে, তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসনের দুর্যোগ মোকাবিলা দল এবং অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি পরিষেবা দপ্তরকে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ইতোমধ্যেই পুরপরিষদ এলাকায় ৭টি শরণার্থী শিবির খোলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকযোগে প্রচার চালিয়ে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে এসে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। বলেছেন তেলিয়ামুড়া মহকুমা শাসক অপূর্ব কৃষ্ণ চক্রবর্তী।
বন্যা পরিস্থিতির খবর পেয়ে বুধবার মাঠে নামলেন তেলিয়ামুড়ার বিধায়ক কল্যাণী সাহা রায়। তিনি পুরপরিষদ এলাকার বিভিন্ন জলমগ্ন এলাকা ঘুরে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দিনগুলোতেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে খোয়াই নদীর জলস্তর আরও বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

