মুখ সবসময় শুকিয়ে যাওয়া এবং প্রচণ্ড তৃষ্ণা পাওয়া। ঘন ঘন জল পান করা এবং রাতে প্রস্রাবের জন্য বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া।দ্রুত ওজন হ্রাস পাওয়া।সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভব করা।অজ্ঞান হয়ে পড়া বা মাথা ঘোরানো,বিশেষ করে ইনসুলিন গ্রহণের পর।

হেল্থ ডেস্ক, ১০ জুলাই।।
      ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যা বিশ্বজুড়ে ৮৩ কোটিরও বেশি মানুষকে প্রভাবিত করছে। সাধারণত টাইপ ১ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিস সম্পর্কে মানুষের ধারণা থাকলেও, ‘টাইপ ৫’ ডায়াবেটিস নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মূলধারায় এটি এখনো পুরোপুরি স্বীকৃত না হলেও, আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন  এটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন অপুষ্টিতে ভোগার কারণে অগ্ন্যাশয়ের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি হলে এই রোগের উদ্ভব হতে পারে।


এই রোগের উপসর্গগুলো টাইপ ১ ডায়াবেটিসের সাথে অনেক ক্ষেত্রে মিলে যায়, যে কারণে রোগ শনাক্তকরণে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।টাইপ ৫ ডায়াবেটিসের উপসর্গ গুলি হলো –

মুখ সবসময় শুকিয়ে যাওয়া
এবং প্রচণ্ড তৃষ্ণা পাওয়া।

  ঘন ঘন জল পান করা এবং রাতে
প্রস্রাবের জন্য বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া।

দ্রুত ওজন হ্রাস পাওয়া।

সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভব করা।

অজ্ঞান হয়ে পড়া বা মাথা ঘোরানো,
বিশেষ করে ইনসুলিন গ্রহণের পর।


টাইপ ৫ ডায়াবেটিস শনাক্ত করতে না পারা বা ভুল রোগ নির্ণয় রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মাত্রার ইনসুলিন প্রয়োগের ফলেও রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে, যাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। এই অবস্থা অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। এছাড়া, রোগটি সময়মতো শনাক্ত না হলে অন্যান্য ডায়াবেটিসের মতোই অন্ধত্ব, কিডনি বিকল হওয়া, স্নায়ুর ক্ষতি এবং ক্ষত দেরিতে শুকানোর মতো দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা একপর্যায়ে অঙ্গচ্ছেদের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করতে পারে।


এই রোগটি শনাক্ত করার জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষা পদ্ধতি বা ‘মার্কার’ নেই। মূলত শৈশবের অপুষ্টি, কম ওজন এবং ইনসুলিনের প্রতি শরীরের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমান চিকিৎসায় প্রচলিত ইনসুলিন সবসময় কার্যকর হয় না, বরং কিছু ক্ষেত্রে মেটফরমিনের মতো ওষুধ ব্যবহার করে রোগীদের স্বাস্থ্যের নাটকীয় উন্নতি দেখা গেছে।


গবেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট, যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষ আক্রান্ত অঞ্চলে টাইপ ৫ ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়তে পারে। এটি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি গুরুতর সতর্কবার্তা। আইডিএফ ইতোমধ্যে এই রোগের নির্ণয় ও চিকিৎসা নির্দেশিকা তৈরির জন্য একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে, যা ভবিষ্যতে রোগীদের সঠিক চিকিৎসায় সহায়তা করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *