ডেস্ক রিপোর্টার, ৯ জুলাই।
সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপে
ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব এর টোপে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছে একাংশ পকেট গরম মানুষ।এমনই ঘটনা দিল্লির পাশে নয়ডাতে।এই খেলার মূল চালিকাশক্তি ছিল তিন বোন—প্রিয়ঙ্কা যাদব, নিধি যাদব এবং রিয়া যাদব। যাদের বলা হয় “যাদব সিস্টার্স”, গল্পটা সিনেমার মতো মনে হলেও, বাস্তবেই ঘটেছে দেশের রাজধানী দিল্লির পাশেই।এই তিন বোনের কাজ ছিল খুব সহজ।
সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপে একটা ‘ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব’ চালাত তারা।টার্গেট করা হতো এমন পুরুষদের, যাদের পকেট গরম কিন্তু একাকীত্বে ভুগছে।মিষ্টি মিষ্টি কথায় বন্ধুত্ব পাতাতো এই তিন বোন ।অল্প দিনেই বিশ্বাস অর্জন করে ফেঁসে ফেলা হতো শিকারকে ।এরপর আসত আসল চাল—চলো, একদিন দেখা করি!
ঐ মেয়েদের ডাকে সাড়া দিয়ে যখনই কোনো পুরুষ দেখা করতে আসত, তাকে নিয়ে যাওয়া হতো নয়ডার কোনো সুনসান, নির্জন জায়গায়। কিন্তু ভুক্তভোগী জানতেন না যে পেছনে ব্যাকআপ হিসেবে তৈরি আছে দুটো গাড়ি।যেই না ডেটিং জমে উঠেছে, অমনি হুট করে সেখানে এন্ট্রি নিত ওমবীর যাদব, পঙ্কজ যাদব এবং মঙ্গেশ যাদব। এরা ছিল এই তিন বোনের পুরুষ সঙ্গী ও পেশাদার গুন্ডা। তারা এসে ভুক্তভোগীকে মারধর শুরু করত, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করত এবং নোংরা অপবাদ দিয়ে ক্যারিয়ার ও পরিবার ধ্বংস করার হুমকি দিত।মারধর করার পর ফোনের পাসওয়ার্ড কেড়ে নেওয়া হতো।এরপর জোর করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে লাখ লাখ টাকা ট্রান্সফার করিয়ে নেওয়া হতো।এমনকি শেষ এক কাণ্ডে তো এক ব্যক্তির লক্ষাধিক লাখ টাকা তো নিয়েছেই, সাথে তার দামি ফরচুনার গাড়িটাও ছিনতাই করে পালাল এই গ্যাং!
এই চক্রের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল লোকলজ্জার ভয় ।কারণ হানিট্র্যাপে পড়া কোনো পুরুষই সহজে মানসম্মানের ভয়ে পুলিশে যাবে না ।দিনের পর দিন বুক ফুলিয়ে কোটি টাকার স্ক্যাম চালাচ্ছিল এই পুরো যাদব পরিবার ।কিন্তু পাপের ঘড়া তো একদিন পূর্ণ হয়ই! নয়ডা সেক্টর ৫৪-এর খেলগাঁও পার্কের কাছে পুলিশ ওত পেতে বসেছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুরো গ্যাংকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে নয়ডা পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া ফরচুনার, সুইফট গাড়ি, অস্ত্র এবং ব্ল্যাকমেইলে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনগুলো।
বর্তমানে এই তিন তথাকথিত বোন এবং তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা এখন গরাদের ওপারে হাওয়া খাচ্ছে।
সচেতন মহলের বক্তব্য মিডিয়ায় অচেনা সুন্দরী বা কোনো ‘ফ্রেন্ডশিপ ক্লাব’-এর ফাঁদে পা দেওয়ার আগে ১০ বার ভাবুন। অনলাইন দুনিয়ায় যাকে আপনি “স্বপ্নের রানি” ভাবছেন, সে হয়তো কোনো ভয়ঙ্কর গ্যাংয়ের অংশ!সুতরাং সতর্ক থাকুন, সচেতন থাকুন।

