তেলিয়ামুড়া ডেস্ক, ৯ জুলাই।।
অবিরাম বর্ষণে মহকুমার অন্যতম কৃষি প্রধান এলাকা বাইশঘড়িয়া গ্রাম কার্যত বন্যার কবলে পড়েছে। মাঠের পর মাঠ এখন জলমগ্ন। কৃষকের বছরের পরিশ্রম, ঘাম আর স্বপ্ন এক নিমেষে ভেসে গেছে বন্যার জলে। প্রকৃতির এই নির্মম আঘাতে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন এলাকার শতাধিক সব্জি চাষি।স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি জমিতে হঠাৎ করে বন্যার জল ঢুকে পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসলের মধ্যে রয়েছে কারকল, ঝিঙে,কাঁচা মরিচ
শশা ও অন্যান্য মরশুমি সব্জি।যে জমি গুলো কয়েকদিন আগেও সবুজে ভরপুর ছিল, আজ সেখানে শুধু থইথই জল। বছরের পর বছর ক্ষতির শিকার হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান আজও অধরাই থেকে গেছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। জলনিকাশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ না করায় ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।
অনেক কৃষক চড়া সুদে ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন। এখন সেই ঋণ শোধ করা তো দূরের কথা, আগামী দিনগুলোতে সংসার চালানোই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সর্বস্বান্ত হওয়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা প্রশাসনের কাছে মূলত ৩টি দাবি জানিয়েছেন।যারমধ্যে রয়েছে অবিলম্বে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়ন করে সরকারি ক্ষতিপূরণ প্রদান,বর্তমান কৃষিঋণে বিশেষ ছাড় বা মকুবের ব্যবস্থা করা,
পুনরায় চাষের জন্য সরকারি উদ্যোগে বিনামূল্যে বীজ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা ইত্যাদি।
প্রকৃতির এই তাণ্ডব শুধু ফসলই ভাসিয়ে নিয়ে যায়নি, ভাসিয়ে নিয়ে গেছে অসংখ্য কৃষক পরিবারের ভবিষ্যতের স্বপ্নও। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কেবল ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান ও হিসাব নিকাশেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি সত্যিই বিপর্যস্ত অন্নদাতাদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন পথ তৈরি করে দেয়।

