Oplus_16908288

তেলিয়ামুড়া ডেস্ক, ২৫ আগস্ট।।
              স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের দাবির মুখে দাঁড়িয়ে তেলিয়ামুড়া মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের এক বিস্ফোরক ঘটনা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দপ্তরের বরিষ্ঠ আধিকারিক দুলাল দেববর্মার বিরুদ্ধে কালচারাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ভজনা বিশ্বাসকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে হেনস্থা ও অপমান করার অভিযোগ উঠেছে।
      জানা গেছে, দুলাল দেববর্মা পদে যোগ দেওয়ার পর থেকেই কাজের জায়গায় চরম মানসিক চাপের মুখে পড়েন ভজনা বিশ্বাস। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তিনি ছুটিতে যান। কিন্তু ছুটি শেষে কাজে ফিরতে গেলে অফিসে তাঁর যোগদানের চিঠি গ্রহণ করতে অস্বীকার করা হয়। পরবর্তীতে আগরতলায় অধিকর্তার কার্যালয়ে যোগদান পত্র জমা দিয়ে তিনি কাজে ফেরেন।
         হেনস্থার এখানেই শেষ নয়। সম্প্রতি অফিসে এসে তিনি দেখেন, তাঁর ব্যবহারের টেবিল-চেয়ারও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, আধিকারিকের নির্দেশে গ্রুপ-ডি কর্মীরা সেই আসবাব সরিয়ে দেন, যার ফলে একজন মহিলা সরকারি কর্মচারীকে মাটিতে বসেই কাজ চালাতে বাধ্য হতে হয়।
     এছাড়া ২০২৬ সালের মহকুমাভিত্তিক স্বাধীনতা দিবস উদযাপনেও তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ভজনা বিশ্বাসের দাবি, তিনি দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও খোয়াই দপ্তর থেকে টিনা দেবনাথ নামের এক ফোক আর্টিস্টকে এনে প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
      বিগত বাম আমলের যে অপসংস্কৃতি নিয়ে রাজ্যজুড়ে সমালোচনা ছিল, সেই একই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি বর্তমান আমলেও ঘটছে কি না—তা নিয়ে তেলিয়ামুড়ার সচেতন মহলে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে। একজন সরকারি কর্মচারীর কর্মক্ষেত্রে ন্যূনতম বসার সুযোগ কেড়ে নেওয়া এবং মানসিক নিপীড়ন চালানো কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং কর্মক্ষেত্রে মহিলার সুরক্ষা ও মর্যাদার ওপর বড় আঘাত।এক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দোষী সাব্যস্ত হলে উপযুক্ত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *