উৎসবের সময় কাভাড়ি যাত্রা ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান মহা ধুমধামের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়।তবে মন্দিরটির সবচাইতে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো ঈশ্বরের কাছে নিবেদিত অনন্য নৈবেদ্য।ভক্তরা ফল-ফুল তো আনেনই, তবে ভগবানের মন জয় করতে মূল আকর্ষণ হিসেবে নিয়ে আসেন ‘মাঞ্চ’ চকোলেট!
ডেস্ক রিপোর্টার, ২৯ আগস্ট।।
বৈচিত্রময় দেশ ভারত। কত শত যে মন্দির রয়েছে দেশ জুড়ে, তা বোধ হয় গুণে শেষ করা যাবে না। কিছু মন্দিরের রীতির মতোই অনন্য সেখানকার প্রসাদ। চিরাচরিত ফল, সন্দেশ কিংবা খিচুড়ির বাইরেও যে কত রকমের খাবার প্রসাদ হিসেবে দেওয়া হয় ভারতের বিবিধ মন্দির ভেদে, তা দেখলে অবাক হতে হয় বৈকি। তেমনই এক অদ্ভুত ও আকর্ষণীয় রীতির দেখা মেলে দক্ষিণ ভারতে।
কেরলের আলাপ্পুঝায় অবস্থিত থেক্কান পাঝানি শ্রী সুব্রহ্মণ্য স্বামী মহাক্ষেত্রম থালাভাদি মন্দির। এখানে আনুমানিক ৩০০ বছর ধরে পূজিত হন ভগবান সুব্রহ্মণ্য স্বামী, অর্থাৎ ভগবান মুরুগান—বাঙালির কাছে যিনি মহাদেবের পুত্র কার্তিক নামে পরিচিত।আলাপ্পুঝার এই মুরুগান মন্দিরটি বিশেষভাবে পরিচিত তার ‘থাইপূয়ম’ উৎসবের জন্য।উৎসবের সময় কাভাড়ি যাত্রা ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান মহা ধুমধামের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়।তবে মন্দিরটির সবচাইতে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো ঈশ্বরের কাছে নিবেদিত অনন্য নৈবেদ্য।ভক্তরা ফল-ফুল তো আনেনই, তবে ভগবানের মন জয় করতে মূল আকর্ষণ হিসেবে নিয়ে আসেন ‘মাঞ্চ’ চকোলেট!ভগবানের চরণে নিবেদনের পর সেই মাঞ্চই প্রসাদ হিসেবে ফিরিয়ে দেওয়া হয় ভক্তদের সঙ্গে থাকে ঈশ্বরের আশীর্বাদপ্রাপ্ত ফুলের কুচি ও চন্দন।

তবে প্রথার পেছনে স্থানীয়ভাবে নানা গল্প প্রচলিত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একসময় এক অসুস্থ শিশু ভগবান মুরুগনের কাছে তার সুস্থতা কামনা করে একটি ‘মাঞ্চ’ চকোলেট নিবেদন করেছিল। কাকতালীয়ভাবে বা অলৌকিকভাবে শিশুটি দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। এরপর থেকেই মন্দিরে মাঞ্চ নিবেদনের এই প্রথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।এমনকী, ভক্তদের ভালোবাসায় মন্দিরের দেবতা ভগবান মুরুগন পরিচিত হয়ে যান ‘মাঞ্চ মুরুগন’ নামে! বর্তমানে এই অদ্ভুত ও মিষ্টি প্রথাই দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্ত ও পর্যটকদের কাছে মন্দিরটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

