রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, “ডিব্রুগড়ে আসাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল মনোশ্রী চৌধুরীর চিকিৎসা হয়। এই চিকিৎসা ক্ষেত্রে খরচ হয় মাত্র ২.২৯ লক্ষ টাকা।ডিব্রুগড়ের সেন্টার অফ এক্সিলেন্স মনোশ্রীকে ঔষধ সরবরাহ করেছিল। তারাই রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের হাতে তুলে দিয়েছে মনোশ্রীর চিকিৎসার মোট খরচের টাকার অঙ্ক।”
ডেস্ক রিপোর্টার, ১৫ সেপ্টেম্বর।।
রাজ্যের শিশু কন্যা মনোশ্রী চৌধুরীর চিকিৎসার নামে কোটি কোটি আর্থিক কেলেঙ্কারি!এই কেলেঙ্কারির তথ্য সামনে নিয়ে এসেছে খোদ রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।মনোশ্রী চৌধুরী এসএমএ অর্থাৎ স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি টাইপ ১ নামক একটি জেনেটিক রোগে আক্রান্ত হয়েছিলো।
রাজ্যের ছোট্ট ফুটফুটে শিশু মনোশ্রী চৌধুরী এক বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েছিলো। তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ছিলো প্রচুর অর্থের। দাবি করেছিল তার মা – বাবা। তারা রাজ্যের সমস্ত অংশের মানুষের কাছে চেয়েছিলেন আর্থিক সহায়তা।মনোশ্রী চৌধুরীর চিকিৎসার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন শহরের গ্র্যান্ডডিওজ এলাকার বাসিন্দা রাজা সাহা। ছোট্ট ফুটফুটে শিশু মনোশ্রীকে সুস্থ করে তুলতে এগিয়ে আসেন সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ। দুই হাত ভরে করেন আর্থিক সহায়তা। কেন্দ্রীয় সরকার দিয়েছে ৫০ লক্ষ টাকা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার অনুরোধে টাটা ট্রাস্ট দিয়েছে ২০ লক্ষ টাকা। সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব সহ দেশ – বিদেশের বহু মানুষ। বলতে গেলে রাজ্যের আপামর জনগণ মনোশ্রীকে সুস্থ করে তুলতে তাদের ক্ষমতা অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা করেছে। তথ্য অনুযায়ী, এই টাকার পরিমাণ নাকি ১০ কোটি টাকারও অধিক।

আর এই মানবিক মুখগুলির সঙ্গেই কি এখন প্রতারণা শুরু? প্রশ্নের উত্তর হবে হ্যাঁ। এরকম এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে নিয়ে এসেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর। তাও আবার সরকারি ভাবে প্রেস রিলিজ জারি করে।
আর এই মানবিক মুখগুলির সঙ্গেই কি এখন প্রতারণা শুরু? প্রশ্নের উত্তর হবে হ্যাঁ। এরকম এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে নিয়ে এসেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর। তাও আবার সরকারি ভাবে প্রেস রিলিজ জারি করে।
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, “ডিব্রুগড়ে আসাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল মনোশ্রী চৌধুরীর চিকিৎসা হয়। এই চিকিৎসা ক্ষেত্রে খরচ হয় মাত্র ২.২৯ লক্ষ টাকা।ডিব্রুগড়ের সেন্টার অফ এক্সিলেন্স মনোশ্রীকে ঔষধ সরবরাহ করেছিল। তারাই রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের হাতে তুলে দিয়েছে মনোশ্রীর চিকিৎসার মোট খরচের টাকার অঙ্ক।”

“জোলগেনসমা” নামক একটি ইনজেকশন প্রয়োজন ছিলো শিশু কন্যা মনোশ্রীর। এই ইনজেকশনের দাম অনেক টাকা। “জোলগেনসমা “- নামক ইনজেকশনটির কথা বলেই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছিল মনোশ্রীর পরিবার। সঙ্গে তাদের ত্রাতা রাজা সাহা।
ডিব্রুগড়ে আসাম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ” এই ইনজেকশন এখন মনোশ্রীর জন্য প্রয়োজন নেই”। একই যুক্তি দেখিয়েছেন দেশের বিখ্যাত হাসপাতাল দিল্লির AIIMS- র চিকিৎসকরা। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া ৫০ লক্ষ টাকার মধ্যে খরচ হয়েছে মাত্র ২ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা। যখন মনোশ্রীর চিকিৎসার প্রয়োজন হবে, তখন তার বাবা ধ্রুব চৌধুরী বাদবাকি ৪৭লক্ষ ৩১ হাজার টাকা খরচ করতে পারবেন।

রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের হাতে এসেছে দিল্লির AIIMS-র মেডিকেল বোর্ডের মূল্যায়ন পত্র। সেখানে চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন,” বিরল এসএমএ অর্থাৎ স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি টাইপ – ১ রোগের জন্য ১৬ কোটি টাকার দামী ‘জোলগেনসমা’ (Zolgensma) ইনজেকশন স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতি পুরোপুরি দূর করতে পারে না। এটি কেবল অবশিষ্ট মোটর ফাংশন কিছুটা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই ইনজেকশন এখন মনশ্রীর বয়সের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নির্দিষ্ট বয়স পেরিয়ে গেলে জোলগেনসমা ইঞ্জেকশনটি দিলে তা ক্ষতিকর হতে পারে।”

AIIMS- চিকিৎসকরা আরও চমকপ্রদ তথ্য দিয়ে
জানিয়েছেন, “জোলগেনসমা”- নামক ইনজেকশনটিকে ডিসিজিআই এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি। অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
মনোশ্রীর চিকিৎসকদের দেওয়া এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রমাণ করে, শিশু কন্যার চিকিৎসার জন্য এতো অর্থের প্রয়োজন ছিল না।তাহলে এখনো কেন ক্রাউড ফান্ডিং চলছে? মানুষকে কেন বোকা বানানো হচ্ছে?

প্রশ্ন উঠছে কিসের ভিত্তিতে, কার পকেট ভরাট করতে সাধারণ মানুষের ” মানবিক” মুখ গুলিকে নিয়ে ছেলে খেলা করা হয়েছে? সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক মহিলা মনোশ্রীর চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে ক্লাউড ফান্ডিং-র হিসাব চাইতেই তার উপর নেমে এসেছিল হুমকি – হুজ্জুতি। এই মহিলা পশ্চিম জেলার জেলা শাসক বিশাল কুমারের কাছেও নালিশ জানিয়েছেন।
মনোশ্রীর নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কত টাকা সংগ্রহ করেছে মনোশ্রীর মা – বাবা রাজা সাহা?

রহস্য উন্মোচন করতে প্রয়োজন উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত। দাবি রাজ্যের সমস্ত অংশের মানুষের। পরিশেষে বলা যায়, রাজ্য সরকার কি তার একটা বিহিত করবে? নাকি কয়েকদিন পর স্বাস্থ্য দপ্তরের ফাইলের চাপায় থাক রুদ্ধ হয়ে ক্লোজ চাপটার হয়ে যাবে ডিব্রুগড়ের আসাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে পাঠানো মনোশ্রীর চিকিৎসা সংক্রান্ত এই রিপোর্ট? এই প্রশ্ন এখন উত্থাপিত হলো। উত্তরের অপেক্ষায় থাকবে রাজ্যের জনপ্রিয় ওয়েব পোর্টাল ” জনতার মশাল”।

