ডেস্ক রিপোর্টার,১৮ সেপ্টেম্বর।।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে দেশের কোটি কোটি বেসরকারি কর্মচারীর সামাজিক সুরক্ষায় বড় পরিবর্তন এলো। কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংস্থায় বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তির মাসিক বেতনের ঊর্ধ্বসীমা ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মোদি সরকার।
আগে যাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ছিল,সেই সীমা ২৫,০০০ টাকা করা হলো।
প্রায় ৫১ লাখ থেকে ১ কোটি নতুন বেসরকারি কর্মচারী সরাসরি এই সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আসবেন।নতুন নিয়ম অনুযায়ী ন্যূনতম পিএফ অবদান ১,৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।দীর্ঘমেয়াদে কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং পেনশন ফান্ডে মোট জমার পরিমাণ অনেক বাড়বে। ইপিএস’র অধীনে অবসরকালীন পেনশন এবং ইডিএলআই’র মাধ্যমে জীবন বিমার আর্থিক সুবিধাও সার্বিকভাবে বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে দেশে চালু থাকা এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ডস অ্যান্ড মিসলেনিয়াস প্রভিশনস অ্যাক্ট
১৯৫২ অনুযায়ী, যে সমস্ত কর্মীর বেতনের বেসিক ১৫ হাজার বা তার কম হত, তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয় ইপিএফও-তে। এবার তার পরিসর বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিল, এবার যাদের বেসিক বেতন ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত তাঁদেরও বাধ্যতামূলকভাবে ইপিএফও’র সদস্য করা হবে। যার অর্থ, অধিকাংশ সংগঠিত সংস্থা এবং প্রায় সমস্ত বেতনসীমার কর্মীই ইপিএফও-ভুক্ত হবেন। বর্তমানে সাড়ে সাত কোটির বেশি গ্রাহক রয়েছে ইপিএফ-এ। এবার সেটা আরও প্রায় ৫১ লক্ষ বাড়বে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে আরও যে বিরাট পরিবর্তন হবে, সেটা হল কর্মীদের সঞ্চয় বৃদ্ধি। কর্মীদের বেসিক বেতন যাই হোক, এতদিন মোট ১৫ হাজার টাকার বেশি বেসিক ধরে ইপিএফও-তে সঞ্চয় করা যেত না। সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকার ১২.৫ শতাংশ অর্থাৎ ১৮০০ টাকা কর্মীরা জমা করতে পারেন ইপিএফও-তে। একই পরিমাণ যোগদান করে সংস্থাও। বেতনের ঊর্ধ্বসীমা যদি ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হলে এই যোগদানটা বেড়ে হবে ৩ হাজার ২০০ টাকা। একই অঙ্ক দেবে সংস্থাও। সংস্থার ভাগের টাকা থেকে কিছুটা যায় পেনশন তহবিলেও। ফলে কর্মীদের ভবিষ্যতের সঞ্চয় অনেকটা বাড়বে। তবে সামান্য কমে যেতে পারে হাতে আসা বেতন।

