পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার আসায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাধায় ২০১১ সাল থেকে আটকে থাকা তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে ঢাকার আশা নিয়ে এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেছেন, ভারতের উদ্যোগের জন্য ঢাকা বসে থাকতে চায় না।

                               #সমীরণ রায়#

                           ________________

ঢাকা, ৬ মে।।
     “ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলে পুশ-ইনের ঘটনা ঘটলে বাংলাদেশ ব‍্যবস্থা নেবে।”-   জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে ঢাকায় সফররত মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিস্তা চুক্তি পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের আমলে হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেবে ভারত।জুন মাসে বন্ধু দেশ চীন বা ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীন সফরে আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার আসায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাধায় ২০১১ সাল থেকে আটকে থাকা তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে ঢাকার আশা নিয়ে এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেছেন, ভারতের উদ্যোগের জন্য ঢাকা বসে থাকতে চায় না। দেখুন, পশ্চিমবঙ্গে এখনও সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং তারা কী ভাবছেন, কী করবেন, সেটা তারা যদি না জানান, তাদের ‘মাইন্ড রিড’ করার কাজ আমার না। প্রত্যাশা থাকবে যাতে করে এই চুক্তিটা যেটা হয়েছিল তখন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা আমরা ‘কনসিডার’ করতে পারি কিনা। কিন্তু সেজন্য তো বসে থাকা চলবে না, আমাদের কাজ আমাদেরকে করতে হবে।এই সফরের উদ্দেশ্য ও তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “চীন আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বন্ধু দেশ, যার সঙ্গে আমাদের ‘স্ট্রাটেজিক কোঅপারেটিভ পার্টনারশিপ’ পর্যায়ে আমাদের সম্পর্ক। এবং আমাদের নতুন সরকারের তরফ থেকে এটা হচ্ছে চীনে প্রথম সফর।এছাড়া মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলাদেশ নিয়ে দেওয়া বক্তব্য রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর (পলিটিক্যাল রেটরিক)। প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গে একটা নির্বাচন হয়েছে। আমাদের কোনো অবজারভেশন আছে কিনা বা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি আছে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, কোনো অবজারভেশন নেই। এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে যারা জিতবেন, যেই জিতুন; প্রথম কথাটা হচ্ছে আমরা আসলে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেও খুব বেশি আলাদা করে চিন্তা করতে চাই না। তিস্তা চুক্তি নিয়ে একসময় পশ্চিমবঙ্গকে আলাপে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। দুটো রাষ্ট্রের মধ্যে যখন চুক্তি হয় আসলে এটা দুটো রাষ্ট্রের চুক্তি হবে। তো ,ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজ্যগুলোর মধ্যে জনগণ যাদেরকে নির্বাচিত করবে। হ্যাঁ, আমরা যেহেতু আমাদের একদম প্রতিবেশী এবং আমাদের সবচেয়ে লম্বা সীমান্ত ওই রাজ্যের সঙ্গে, আমাদের এই সম্পর্ক ইন্টারঅ্যাকশন এটা কন্টিনিউ করবে।একই সঙ্গে মঙ্গলবার ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে অংশ নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলকে হটিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এলেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিতে কোনো বদল আসবে না। ভারতের নির্বাচন ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।  বাংলাদেশের ফরেন পলিসি অ্যাক্রস দ্য বোর্ড একই থাকবে। বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতিতে ফরেন পলিসি। সেটা যে সরকারই আসুক না কেন, সেই সাথে আমাদের ফরেন পলিসি পরিবর্তন হবে না। আমাদের ফরেন পলিসি নিয়েই সবার সাথে আলোচনার ভিত্তিতে এগোব।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *