করিমপুর কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে অমিত রক্ষিত স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের নিয়ে কাজ করেন। এবং সাফল্য পান নির্বাচনে। পরাজিত করেন তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী তথা টলি তারকা সোহম চক্রবর্তীকে।

ডেস্ক রিপোর্টার,৫ মে।।
    সদ্য সমাপ্ত পশ্চিমবাংলার বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে খড় কুটোর মতো উড়িয়ে দেয় ভাজপা। এবার বঙ্গ নির্বাচনে ত্রিপুরার বড় অবদান রয়েছে। কারণ বাংলার ভোটে ত্রিপুরার বিজেপি নেতৃত্ব চষে বেড়িয়েছেন। বিজেপির প্রদেশ নেতৃত্ব সহ বিভিন্ন স্তরের নেতাদের প্রচারে ব্যবসার করেছে বঙ্গের পদ্ম শিবির। ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।বিপ্লব দেব ছিলেন সহকারী প্রভারীর ভূমিকায়।বাদ যায় নি মন্ত্রিসভার সমস্ত সদস্য – সদস্যা ও বিধায়করাও।

বিজেপির কর্মকর্তাদের সঙ্গে করিমপুরে অমিতের সাংগঠনিক সভা।

তারা প্রত্যেকেই জীবন বাজি রেখে মমতার গড়ে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছিলেন বুক চিতিয়ে।

রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অমিত রক্ষিত , ভগবান দাস সহ প্রত্যেক নেতাকেই পৃথক ভাবে জেলা ও নির্দিষ্ট বিধানসভার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এবং তারা প্রত্যেকেই জীবন বাজি রেখে মমতার গড়ে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছিলেন বুক চিতিয়ে। এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের স্বপ্নকে সাকার করতে ভূমিকা পালন করেন।

করিমপুরে চায়ের দোকানে বসে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছেন অমিত রক্ষিত।

শতাংশের হিসাবে ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ সংখ্যালঘু লোকজনের বসবাস করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে।

বাংলার নদীয়া জেলার করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন প্রদেশ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অমিত রক্ষিত। এটি বাংলার ৭৭ নম্বর বিধানসভা কেন্দ্র। করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি মূলত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। শতাংশের হিসাবে ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ সংখ্যালঘু লোকজনের বসবাস করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে। এটি তৃণমূল কংগ্রেসের গড় বললেই চলে। এই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে অমিত রক্ষিত স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের নিয়ে কাজ করেন। এবং সাফল্য পান নির্বাচনে। গোটা বাংলাতেই ছিলো এই চিত্র।জানিয়েছেন প্রদেশ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অমিত রক্ষিত।


অমিত রক্ষিতের কথায়, মূলত বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী ইস্যু ও অনুন্নয়ন ইস্যু প্রাধান্য পায় গোটা বাংলায়। তার দায়িত্বে থাকা করিমপুরের অবস্থাও একই।

করিমপুর সহ গোটা বাংলায় বিজেপির এই জয়ের পেছনে কি কারণ ছিলো? অমিত রক্ষিতের কথায়, মূলত বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী ইস্যু ও অনুন্নয়ন ইস্যু প্রাধান্য পায় গোটা বাংলায়। তার দায়িত্বে থাকা করিমপুরের অবস্থাও একই। এতদিন মমতা বাংলাদেশীদের এবারের ভোটার করে নির্বাচনী বৈতরণী পেরিয়ে যেতো।এবার নির্বাচন কমিশন মমতার সেই খেলা বন্ধ করে দিয়েছে। তার তাতেই তাসের মতো ভেঙে পড়েছে তৃণমূল।
     


নির্বাচনের আগে থেকেই গোটা বাংলা জুড়ে ছিলো পরিবর্তনের দমকা হাওয়া।

প্রদেশ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অমিত রক্ষিত জানিয়েছেন, ” নির্বাচনের আগে থেকেই গোটা বাংলা জুড়ে ছিলো পরিবর্তনের দমকা হাওয়া। মানুষ বুঝে গিয়েছিল তৃণমূল ক্ষমতায় থাকে শেষ হয়ে যাবে বাংলা। তাই বাংলাকে বাঁচানোর তাগিদে মানুষ পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়।
  

করিমপুরের সীমান্ত এলাকায় নৈশকালীন বৈঠক।

অমিত রক্ষিতের দায়িত্বে থাকা করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী সমরেন্দ্র নাথ ঘোষ ১০ হাজার ৪৩ ভোটে জয়ী হন।

অমিত রক্ষিতের দায়িত্বে থাকা করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী সমরেন্দ্র নাথ ঘোষ ১০ হাজার ৪৩ ভোটে জয়ী হন। এই জয় ছিলো যথেষ্ট কঠিন। কারণ এই কেন্দ্রে তৃণমুল কংগ্রেসের প্রার্থী ছিলেন টলিউড অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। কিন্তু অমিতের হার না মানা মনোভাবে চাঙ্গা হয়ে যায় করিমপুরের বিজেপি কর্মীরা। এবং মানুষ দুই হাত ভরে ভোট দেন বিজেপি প্রার্থীকে।


তার রেজাল্টও পাওয়া যায় হাতেনাতে। খবর অনুযায়ী, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও করিমপুরের জয় নিয়ে আশার আলো দেখেন নি। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের স্বপ্ন পূরন করে দেখিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অমিত রক্ষিত।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *