উমা ও তার মেয়ে সুস্মিতা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর উভয়কে পুলিশ নিজেদের সেভ জোনে নিয়ে যায়।তাদেরকে অরুন্ধতী নগর পুলিশ রিজার্ভে থাকার ব্যবস্থা করে দেয় পুলিশ। পুলিশের নজর বন্দির মধ্যে দিন কাটছে মা – মেয়ের। পুলিশ সূত্রের দাবি,  পুলিশ উমা ও তার মেয়েকে সেভ জোনে রেখেছে শর্ত সাপেক্ষে। মা – মেয়ে পুলিশকে জানিয়েছে, তারা আদালতে দাঁড়িয়ে রাজু বর্মন ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী দেবে।

ডেস্ক রিপোর্টার, ১০ আগস্ট।।
                     ঊষা বাজারের ভারতরত্ন ক্লাবের প্রাক্তন সম্পাদক দুর্গা প্রসন্ন দেব ওরফে ভিকি হত্যা মামলায় নয়া মোড়। এই মামলায় রাজসাক্ষী দেবে দুই নারী। তারাই রাজু বর্মনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দুর্গা প্রসন্নকে খুন করেছিল। এখন তারাই পাল্টা রাজু বর্মনের বিরুদ্ধে আদালতে দাঁড়িয়ে দেবে রাজসাক্ষী। তদন্তকারী পুলিশ ইতিমধ্যে এই প্রক্রিয়ার কাজকর্ম শুরু করেছে। আগামী কিছু দিনের মধ্যেই দুর্গা প্রসন্ন হত্যা মামলার ট্রায়াল শুরু হবে আদালতে।
      তদন্তকারী পুলিশ সূত্রের খবর, দুর্গা প্রসন্ন হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল উমা সরকার ও তার মেয়ে সুস্মিতা সরকারকে। সঙ্গে অবশ্যই ছিলো দুর্গা হত্যা মামলার মূল মাস্টার মাইন্ড রাজু বর্মন, তার ভাই রাকেশ বর্মন, প্রদ্যুৎ ধর চৌধুরী আকাশ দাস সহ আরো কয়েকজনকে।তাদের মধ্যে শুরু আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন উমা সরকার ও তার মেয়ে সুস্মিতা সরকার। গত বছরেই তারা জামিন পেয়ে জেল থেকে বেরিয়ে আসে।


পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উমা ও তার মেয়ে সুস্মিতা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর উভয়কে পুলিশ নিজেদের সেভ জোনে নিয়ে যায়।তাদেরকে অরুন্ধতী নগর পুলিশ রিজার্ভে থাকার ব্যবস্থা করে দেয় পুলিশ। পুলিশের নজর বন্দির মধ্যে দিন কাটছে মা – মেয়ের। পুলিশ সূত্রের দাবি,  পুলিশ উমা ও তার মেয়েকে সেভ জোনে রেখেছে শর্ত সাপেক্ষে। মা – মেয়ে পুলিশকে জানিয়েছে, তারা আদালতে দাঁড়িয়ে রাজু বর্মন ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী দেবে। এই শর্ত মূলেই পুলিশ তাদেরকে নিরাপত্তা দিয়ে নিজেদের সেভ কাস্টডিতে রেখেছে। পুলিশি নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই উমা – সুস্মিতা ঘুরাফেরা করছে শহরে। শহরের লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরে এসে মেতেছিল সিদুর খেলায়।


ঊষাবাজার অঞ্চলের লোকজন জানিয়েছে, সম্প্রতি উমা ও তার মেয়ে পুলিশি নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে গিয়েছিল ঊষাবাজারে।সেখানে তারা স্থানীয় ক্লাব নেতৃত্বের সঙ্গে কথাবার্তা বলে। উমা ও তার মেয়ে সুস্মিতা স্থানীয় ক্লাব কর্তাদের প্রস্তাব দেয়, তারা রাজু বর্মনের বিরুদ্ধে আদালতে দাঁড়িয়ে রাজ সাক্ষী দেবে।বিনিময়ে তাদেরকে এলাকায় থাকার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। অবশ্যই স্থানীয় ক্লাব নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাদেরকে কি বলেছে? তা জানা যায় নি।


দুর্গা হত্যা মামলার তদন্তকারী অফিসার ইনস্পেক্টর প্রাজিৎ মালাকার জানিয়েছেন, উমা ও তার মেয়ে সুস্মিতা রাজসাক্ষী হতে পারে। নিরাপত্তার জন্য তাদেরকে পুলিশের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আইও- র দাবি, সুস্মিতা ও তার মা এখন অবস্থান করছে আত্মীয় বাড়ীতে।


উমা সরকার ও তার মেয়ে সুস্মিতা কি দুর্গা প্রসন্ন হত্যা মামলার রাজসাক্ষী হবে?

উমা সরকার ও তার মেয়ে সুস্মিতা কি দুর্গা প্রসন্ন হত্যা মামলার রাজসাক্ষী হবে? এই প্রশ্নের জবাবে সরকার পক্ষের আইনজীবী শঙ্কর লোধ জানিয়েছেন, ” মামলার ট্রায়ালের সময়ে সব বুঝা যাবে।” এর বিশেষ কিছু বলতে চান নি তিনি।
একই প্রশ্নের উত্তরে আসামীর পক্ষের আইনজীবী সম্রাট কর ভৌমিক বলেন, ” এই মামলার কোনো রাজসাক্ষী হবে না। তবে তিনি উপমা দিয়ে বলেন, পাঠাকে বলি দেওয়ার আগে কাঠাল পাতা খাওয়ানো হয়।পুলিশ এটাই করছে উমা ও তার মেয়ের সঙ্গে।”
          সর্বোপরি ঊষা বাজার সহ রাজ্যের মানুষ চাইছে দুর্গা প্রসন্ন হত্যা মামলার জড়িত রাজু বর্মন সহ বাদবাকিদের শাস্তি হোক। পুলিশ প্রশাসনও হাঁটছে একই সংকল্পকে সামনে রেখে। মানুষ আস্থা রাখছে আদালতের উপর। তবে আদালত রায় জানাবে সমস্ত তথ্য প্রমাণের উপর ভিত্তি করেই।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *