ডেস্ক রিপোর্টার, ৩ আগস্ট।।
     দীর্ঘদিন ধরে জ্বলতে থাকা পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের আকাশে অবশেষে মিলল শান্তির ইঙ্গিত। আমেরিকার সঙ্গে নতুন চুক্তিতে রাজি হয়েছে ইরান, রবিবার এমনটাই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে এক ধাক্কায় বেশ কিছুটা নেমেছে অপরিশোধিত খনিজ তেলের দাম। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই এক বক্তব্যেই এখন চরম উদ্বেগের মাঝে ‘আশার আলো’ দেখছে ভারতসহ বিশ্বের শীর্ষ তেল আমদানিকারক দেশগুলি।
তেহরানের অনুরোধেই স্থগিত সামরিক অভিযান নিজের নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধ বিরতি ও একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ইতিবাচক আগ্রহ দেখিয়েছে তেহরান।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প “ইরান সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য কিছুটা সময় চেয়েছে। তাই তাদের অনুরোধের পর আপাতত ইরানে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পর থেকেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ ঘিরে তৈরি হওয়া চরম যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা হলেও প্রশমিত হওয়ার আশা জাগছে।
    ট্রাম্পের এই বার্তার ইতিবাচক প্রভাব সঙ্গে সঙ্গে পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেলে তেলের দাম ৪ ডলারেরও বেশি কমেছে ।মার্কিন বাজারেও অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়ে স্বস্তিদায়ক স্থানে নেমে এসেছে ।গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমেরিকা-ইরান সংঘাত ও ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র
হামলার জেরে তেলের বাজার যেভাবে অগ্নিমূল্য হয়ে উঠেছিল, তা এক ধাক্কায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।প্রশ্ন উঠতে পারে ভারতে কেন ‘আশার আলো’?এর উত্তরে বলা যায় ভারত নিজের প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮০-৮৫% বিদেশ থেকে আমদানি করে। তাই বিশ্ববাজারে তেলের দামের সামান্য ওঠানামাও ভারতীয় অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও জ্বালানির মূল্য কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।দ্বিতীয়তঃ, তেলের দাম কমলে পরিবহণ খরচ কমবে, যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।তৃতীয়তঃ,তেলের পেছনে বিদেশি মুদ্রার খরচ কম হলে মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার পতন ঠেকানো সহজ হয়।
যদিও বাজার আপাতত ট্রাম্পের এই ইঙ্গিতকে স্বাগত জানিয়েছে, তবুও আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদরা সতর্ক। হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ নিরাপদ হওয়া এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষরিত হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে কূটনৈতিক মহল।







Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *