ডেস্ক রিপোর্টার, ২৩ আগস্ট।।
বিজ্ঞাপনে লোভনীয় ছবি আর সুরক্ষার চটকদার দাবি, কিন্তু বাস্তবে ভিন্ন চিত্র। প্যাকেজজাত খাবারে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগে এবার একাধিক নামী বহুজাতিক সংস্থাকে কড়া নোটিস পাঠাল ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথোরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)।
অভিযোগের তীব্রতা ও নজরদারি
ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে বিজ্ঞাপনের চটকদার দাবির সঙ্গে উপাদানের সত্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, একাধিক নামী ব্যান্ডের খাবারে এমন কিছু কৃত্রিম রঙ, প্রিজারভেটিভ এবং অতিরিক্ত মাত্রায় সোডিয়াম ও চিনি ব্যবহার করা হচ্ছে—যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের প্রিয় পানীয় ও স্ন্যাক্সে এই ধরণের রাসায়নিকের উপস্থিতি উদ্বেগ বাড়িয়েছে।অনেক বহুজাতিক সংস্থাই বিজ্ঞাপনে তাদের খাদ্যপণ্যকে ‘১০০ শতাংশ প্রাকৃতিক’ বা ‘স্বাস্থ্যকর’ বলে প্রচার করে। কিন্তু FSSAI-এর ল্যাব পরীক্ষায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদে তাজা রাখার জন্য নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি কেমিক্যাল ব্যবহার।প্যাকেটের গায়ে লেখা উপাদানের তালিকার সঙ্গে ভেতরের খাবারের নমুনার অসঙ্গতি।”জিরো সুগার” বা “নো অ্যাডেড প্রিজারভেটিভ” বলা সত্ত্বেও ক্ষতিকর বিকল্প রাসায়নিকের উপস্থিতি। সোশাল মিডিয়ায় FSSAI জানিয়েছে, যে সব ব্র্যান্ডকে নোটিস পাঠানো হয়েছে সেগুলির মধ্যে রয়েছে পেপসিকো, নেসলে ইন্ডিয়া, রেড বুল, কোকা কোলার মতো ব্র্যান্ড। এছাড়া কেএফসি, ম্যাকডোনাল্ড, পিজ্জা হাট, ডোমিনো’জ এবং কোস্টা কফির মতো নামী ফুড চেন সংস্থাগুলিকেও খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে নোটিস পাঠানো হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জনস্বাস্থ্য নিয়ে কোনোরকম আপস করা হবে না। সংশ্লিষ্ট বহুজাতিক সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না মিললে বিশাল অঙ্কের জরিমানা, এমনকি পণ্য বাজারে বিক্রির লাইসেন্স বাতিল হতে পারে।
বাণিজ্যিক মুনাফার তাগিদে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এই চেষ্টা রুখতে রাজ্য খাদ্য দফতরগুলিকেও বাজার থেকে নিয়মিত নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখরোচক বিজ্ঞাপনের ফাঁদে না পড়ে উপাদান দেখে খাবার কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

