ডেস্ক রিপোর্টার, ২৩ অক্টোবর।।
বাধারঘাটের জননেতা প্রয়াত বিধায়ক দিলীপ সরকার খুব আদর করতেন তার দুই বোন মিনা ও রিনা সরকারকে। এটাই স্বাভাবিক।
বাধারঘাট অবাম রাজনীতিতে কথিত আছে, দিলীপ সরকারের বাড়িতেই বিজেপির বর্তমান মণ্ডল সভাপতি মনীষ দেবের রাজনীতির হাতেখড়ি। কিন্তু এক সময় মনীষ দেবের নানান কর্মকান্ডে বিতশ্রদ্ধ হয়ে উঠেছিলেন খোদ দিলীপ সরকার। তিনি বাধ্য হয়ে মনীষ দেবকে তাঁর ব্যারেক থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছিলেন।
বাধারঘাট অবাম রাজনীতির অর্থাৎ কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে রূপান্তরিত হওয়া নেতা – কর্মীদের বক্তব্য, ২০১৭ সালে দিলীপ সরকার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর মনীষ দেবকে বাধারঘাট মণ্ডলে জায়গা দেয় নি। এরপরেই মনীষ বেঁকে বসে। এবং দিলীপ সরকার ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নানান কটুক্তি করেন। তাও আবার দলীয় কর্মীদের কাছেই।
বাধারঘাটের বিজেপির কর্মীদের অভিযোগ, ২০১৭ সালে মনীষ দেব রাজনৈতিক ভাবে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন । এবং নানান জায়গাতে প্রয়াত বিধায়ক দিলীপ সরকারকে মাতাল বলে অভিহিত করে। শুধু তাই নয়, দিলীপ সরকারের আদরের দুই বোন মিনা সরকার ( বর্তমান বিধায়িকা) ও রিনা সরকারের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নোং*রা প্রচার করেন মনীষ দেব। বিজেপির কর্মীদের কথায়, ” তৎ সময়ে মনীষ নাকি যুব সমাজের কাছে প্রচার করে বেড়াতেন দিলীপ সরকারের বোন মিনা সরকার ( বর্তমান বিধায়িকা) পরিমল নামক এক ব্যক্তিকে ভালোবাসতেন। এক সময় তারা পালিয়েও গিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দিলীপ সরকার বোন মিনাকে নিয়ে আসেন। এরপর মিনা আর বিয়ে করেন নি। ঘুরিয়ে মিনা সরকারের চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন মনীষ।

বাধারঘাটে কান পাতলেই মনীষ দেবের এই সমস্ত নোংরা কার্যকলাপের কথাবার্তা শুনা যায় বিজেপির কর্মীদের মুখে মুখে। বিধায়িক মিনা সরকারকে সম্মান জানিয়ে আমরা বলছি, ” মনীষ দেবের দেওয়া বদনামের সত্যতার খুঁজে জনতার মশাল তদন্ত করেছিল। কিন্তু তার কোনো সত্যতা পায় নি আমরা। অর্থাৎ তৎ সময়ে মনীষ দেব যে ইচ্ছাকৃত ভাবে জননেতা দিলীপ সরকার ও তার পরিবারকে কালিমা লিপ্ত করতে চেয়েছিলো, সেই কালো অধ্যায়টি জলের মতো পরিষ্কার।
একই ভাবে দিলীপ সরকারের ছোট বোন রিনা সরকারের সঙ্গে রতি নামে এক ব্যক্তির নাম জড়িয়ে নাকি নানান কল্প কাহিনী বাজারে বিক্রি করতেন মনীষ। রতি ছিলেন দিলীপ সরকারের অঘোষিত সিএ। রতি নাকি রিনাকে বিয়ে না করেও ছিলেন সরকার বাড়ির ঘর জামাই। মনীষ গোটা বাধারঘাটে সরকার বাড়ির নামে এই সমস্ত অ*প*বা*দ দিতেন, তা গোটা বাধারঘাটে ওপেন সিক্রেট। এখন তা বিজেপির কর্মীদের মুখে মুখে। আমরা জনতার মশাল এই সমস্ত বক্তব্যের ( মনীষ দেবের মুখ থেকে বের হওয়া) সত্যতা খুঁজে পায় নি। ধূর্ত মনীষ দেব সরকার পরিবারকে কালিমালিপ্ত করতে যে পর্দার আড়াল থেকে কাজ করে চলছেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিজেপির কর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক সময় জননেতা দিলীপ সরকারের কানে এই সমস্ত কথা পৌঁছে যায়। দিলীপ সরকার রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে যান। এরপরেই মনীষ দেবকে দিলীপ সরকার ঘাড় ধাক্কা দিয়ে নিজের বাড়ির ব্যারেক ( দিলীপ অনুগামীদের থাকার জায়গা) থেকে বের করে দেন। এবং মনীষ দেবকে মাটিতে পুঁ*তে দেওয়ার হু*ম*কি দিয়েছিলেন দিলীপ সরকার।এরপর থেকে মনীষ সরকার বাড়ির উঠানেও পা রাখতে পারেন নি।
২০১৮ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরও সরকার বাড়িতে মনীষ ছিলো ব্রাত্য। দিলীপ সরকার প্রয়াত হওয়ার পর মিমি মজুমদার উপ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধায়িকা হয়েছিলেন। তখন মিমির সঙ্গে বেশ রাজনৈতিক সখ্যাতা গড়ে তুলেছিলেন মনীষ দেব।
২৩- র বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিট পান মিনা সরকার। তিনি জয়ী হয়ে বাধারঘাটের বিধায়িকা হন। তখনও মনীষ গুরুত্ব পেতেন না সরকার বাড়িতে। অভিযোগ , রতি তাকে দেখলেই সরকার বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতেন। রতি জানতেন, “এক সময় সরকার বাড়ির দুই মেয়ে মিনা – রিনাকে নিয়ে মনীষ কতটা নোং*রা মন্তব্য করেছিলেন। তার জন্যই দিলীপ সরকার তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছিলেন ব্যারেক থেকে।” বর্তমানে রতি অসুস্থ। আসেন না সরকার বাড়িতে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিধায়িকা মিনা সরকারকে নিজের মুঠিতে করে নেয় ধূর্ত মনীষ দেব।পিসি ( ডাকা ) মিনাও আটকে যান ধূর্ত শৃগাল মনীষ দেবের পাতা ফাঁদে।অভিযোগ, মনীষ ও সিদ্ধি আশ্রমের ইন্দ্র নম: যৌথ ভাবে মিনাকে XUV গাড়ি উপহার দিয়ে লোভের মায়া জালে আটকে ফেলেন! বিধায়িকার চোখে পড়িয়ে দেয় কালো পট্টি । তাই তিনি এখন মনীষ – ইন্দ্র ব্যতীত কাউকেই দেখতেই পান না।

কিন্তু মিনা সরকার ও তার বোন রিনা সরকার কি একে বারেই জানেন না, যে এক সময় মনীষ দেব তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কতটা নোং*রা কাহিনী বাজারে প্রচার করেছিলেন? নাকি সব জেনেও মনীষ – ইন্দ্র – র কালো টাকার মোহে গান্ধারীর মতো অন্ধ হয়ে আছেন বিধায়িকা মিনা সরকার? এই প্রশ্ন তুলছেন খোদ বাধারঘাটের বিজেপি কর্মীরা।যে যুবক একদিন সরকার বাড়ির মেয়েদের ব্যক্তিগত ভাবে ব*দনা*মের নিলামে তুলেছিল, সেই যুবকই এখন মিনা রানীকে পকেটে ঢুকিয়ে বাধারঘাটে রাজনীতির কা*লো বাণিজ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছে? ম্যাডাম মিনা সরকার কি এতোটাই সাদাসিধে? বিধায়িকা মিনা রানী সরকারের উদ্দেশ্যে বিজেপির কর্মীদের আহ্বান, ” ” ম্যাডাম আপনি দুই চোখ খুলে দেখুন। আপনার চোখের সামনেই ফুটে উঠবে সব তথ্য। তখন তো কালো বেড়ালকে ঝাঁটা-পেটা করে তাড়াতে পারবেন? নাকি তার পরও পোষবেন?

