ডেস্ক রিপোর্টার, ৬ অক্টোবর।।
এককালের অপ্রতিরোধ্য ‘লালদুর্গ’ এখন কার্যত নীরব। পাহাড়ে একসময়ের একচ্ছত্র অধিপতি বামফ্রন্ট ২০১৮ সালের পর থেকে রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় তীব্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৮-র ধাক্কা, ২০২১-এর এডিসি নির্বাচনে তিপ্রা মথার উত্থানে শূন্য আসন, ২০২৩-এর বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড় থেকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হওয়া—আর সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে প্রায় সাড়ে চার হাজারের বেশি আসনের মধ্যে মাত্র আশির কোঠায় আসন পাওয়া প্রমাণ করছে, পাহাড়ে সিপিএমের এই রক্তক্ষরণ সাময়িক নয়, বরং সুগভীর।প্রশ্ন উঠছে, জিতেন্দ্র চৌধুরী, রাধাচরণ দেববর্মা কিংবা নরেশ জমাতিয়াদের মতো বর্ষীয়ান জনজাতি নেতারা কি তবে পাহাড়ের রাজনীতির বদলে যাওয়া পাল্স বুঝতে ব্যর্থ?
পাহাড়ে কেন ধসে পড়ল বাম দুর্গ? আঞ্চলিক ও জাতিগত আবেগের কাছে পরাজয়!প্রজন্মগত ব্যবধান ও রাজনৈতিক ভাষা বোধগম্য হয়নি!জং ধরেছে ক্যাডারভিত্তিক সংগঠনে!
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে,বামফ্রন্ট এতদিন সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শ্রেণিসংগ্রামের কথা বলে রাজনীতি করেছে। কিন্তু প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মনের জাতিগত পরিচয়ের আবেগের কাছে সিপিএমের পুরোনো তত্ত্ব আর খাটেনি।দ্বিতীয়ত, পাহাড়ের নতুন প্রজন্মের ভোটাররা ঐতিহ্যবাহী স্লোগান ও পার্টি ক্যাডার ব্যবস্থার চেয়ে নিজস্ব পরিচিতির রাজনীতি ও দ্রুত সমাধানের কথা বলনেওয়ালা দলকে বেশি আপন করে নিয়েছে।তৃতীয়তঃ,
পাহাড়ের নতুন প্রজন্মের ভোটাররা ঐতিহ্যবাহী স্লোগান ও পার্টি ক্যাডার ব্যবস্থার চেয়ে নিজস্ব পরিচিতির রাজনীতি ও দ্রুত সমাধানের কথা বলনেওয়ালা দলকে বেশি আপন করে নিয়েছে। চতুর্থত একটানা দুই দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকায় মূল স্তরের সংগঠন কিছুটা শিথিল হয়ে পড়েছিল।তাতে বিরোধীদের কটাক্ষ, “পাহাড়ে সিপিএম এখন সাইনবোর্ড সর্বস্ব দলে পরিণত হয়েছে।”

সামনেই কড়া নাড়ছে রাজ্যের পৌরসভা ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচন, আর তার ঠিক পরেই ঢাকে কাঠি পড়বে ২০২৮-এর মহাযুদ্ধ অর্থাৎ বিধানসভা নির্বাচন। পাহাড়ে সম্পূর্ণ কোণঠাসা হয়ে সমতলেও যদি বামেরা জায়গা হারিয়ে ফেলে, তবে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে,রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো ‘জাদুমন্ত্র’ থাকে না—থাকে সঠিক সময়, সঠিক ইস্যু এবং মানুষের আস্থা অর্জনের জেদ। কাজটা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। দরজায় কড়া নাড়া পৌর নির্বাচনই বলে দেবে, বামফ্রন্ট কি কেবলই প্রতিরক্ষাত্মক থাকবে, নাকি নতুন রণকৌশলে ২০২৮-এর বিধানসভা লড়াইয়ে প্রাসঙ্গিকতা ফেরাবে।

