খোয়াই ডেস্ক, ৭ নভেম্বর।।
আসন্ন খোয়াই পৌর পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১১ নম্বর ওয়ার্ডে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। নির্বাচনের ময়দানে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নেমেই বিজেপির বিরুদ্ধে একপ্রকার ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রাক্তন বিজেপি মণ্ডল সভাপতি উত্তম কুমার ঘোষ। বিজেপি থেকে সরে এসে নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন তিনি। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে দাবি করেছেন, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির জামানত জব্দ করে ছাড়বেন।
নিজের বক্তব্যে উত্তম কুমার ঘোষ দাবি করেন, ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে সিপিআইএম ও কংগ্রেস থেকে আসা একাধিক ব্যক্তি বর্তমানে বিজেপির রাজ্য কমিটি থেকে শুরু করে খোয়াইয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে জায়গা করে নিয়েছেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা পুরনো কর্মীদের যথাযথ সম্মান ও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। তাঁর কথায়, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করেছেন, তাঁদের অনেককেই বঞ্চনা ও অপমানের শিকার হতে হয়েছে।
সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। উত্তম কুমার ঘোষের অভিযোগ, যাঁদের প্রকৃত অর্থে সরকারি আবাসন প্রকল্পের ঘর, ঋণ কিংবা শৌচালয় পাওয়ার কথা ছিল, তাঁদের অনেকেই সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে কিছু মানুষ সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। যদিও তাঁর এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।
নিজের বর্তমান পেশার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বর্তমানে তিনি মুহুরীর কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি এলাকার বহু মানুষ বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরি, আবেদনপত্র লেখা এবং সরকারি পরিষেবা সংক্রান্ত কাজে তাঁর সহযোগিতা নিয়ে থাকেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, মানুষের সমস্যার কথা তিনি কাছ থেকে জানেন এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকেই রাজনীতিতে নতুনভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উত্তম কুমার ঘোষের আরও অভিযোগ, বিজেপি তাঁকে শুধু রাজনৈতিকভাবে বঞ্চিতই করেনি, বরং তাঁকে অপমানও করেছে। তাঁর দাবি, মানুষের প্রকৃত সমস্যার সমাধানে দলটি প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে পারেনি। সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষই এবার ভোটের মাধ্যমে সমস্ত প্রশ্নের জবাব দেবেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনে জয়ী হলে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কীভাবে সাধারণ মানুষ আবাসনের ঘর, শৌচালয় এবং ঋণের সুবিধা পেতে পারেন, সেই বিষয়ে তিনি বিশেষভাবে উদ্যোগী হবেন। প্রকৃত উপভোক্তারা যাতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করাই হবে তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে, প্রাক্তন বিজেপি মণ্ডল সভাপতির নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী ময়দানে অবতীর্ণ হওয়া ১১ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর সরাসরি আক্রমণ, অন্যদিকে জয়ের ব্যাপারে তাঁর দৃঢ় প্রত্যয়—সব মিলিয়ে এখন নজর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটারদের সিদ্ধান্তের দিকে। শেষ পর্যন্ত উত্তম কুমার ঘোষের এই চ্যালেঞ্জ ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়, সেটাই দেখার বিষয়।

