Oplus_16908288

তেলিয়ামুড়া ডেস্ক ,১২ সেপ্টেম্বর।।
                   তেলিয়ামুড়ায় ফের বেপরোয়া গতির বলি দুই যুবক! আসাম–আগরতলা জাতীয় সড়কের মগবাড়ি এলাকায় ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে বাইকে থাকা দুই যুবকের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র উত্তেজনা।
            প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, একটি বহিঃরাজ্যের গাড়ির পেছনে দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় বাইকটি ওই গাড়িতে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের অভিঘাতে বাইকে থাকা দুই যুবক রাস্তায় ছিটকে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে।
            দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তেলিয়ামুড়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এবং তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ। দুর্ঘটনার জেরে জাতীয় সড়কে যান চলাচলও ব্যাহত হয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
          তবে দুর্ঘটনার পর ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা নিয়েই উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের কাছেই তেলিয়ামুড়া ট্রাফিক ইউনিটের ইন্টারসেপ্টর ভেহিকেল নিয়ে চেকিং চলছিল। অভিযোগ, ইউনিট ইনচার্জ নিবাস চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে ট্রাফিক কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে মাত্র প্রায় ২০ মিটার দূরত্বে অবস্থান করছিলেন।
           স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর দুই বাইক আরোহী দীর্ঘক্ষণ রাস্তার উপর পড়ে থাকলেও ট্রাফিক ইউনিটের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত তেলিয়ামুড়া অগ্নি নির্বাপক দপ্তরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান।
             প্রশ্ন উঠছে—চোখের সামনে যখন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, তখন জরুরি উদ্ধার তৎপরতায় এত দেরি কেন? চেকিংয়ে ব্যাস্ত থাকা ট্রাফিক কর্মীদের চোখের সামনে দুর্ঘটনা ঘটলেও কেন দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু হলো না—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
          তবে স্থানীয়দের এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি, ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা এবং উদ্ধারকাজে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
            এদিকে, মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় দুই যুবকের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে জাতীয় সড়কে বেপরোয়া গতি এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ব্যাবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের মুখে প্রশাসন।।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *