ডেস্ক রিপোর্টার,১২ সেপ্টেম্বর।।
১০ বছর পর ভিলেজ কমিটি ভোট, আর মনোনয়ন জমা পড়তেই সামনে এলো চমকে দেওয়া অঙ্ক। মোট আসন ৪৫৯৭। কিন্তু মনোনয়ন জমা পড়েছে তার কয়েকগুণ বেশি। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন – ৭৫৩ জন নির্দল প্রার্থী কারা? এরাই কি এবার কিং-মেকার? প্রশ্ন উঠছে এই নির্বাচনী অঙ্কে কে এগিয়ে?
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, মোট ভিলেজ কমিটি ৫৮৭টি।মোট আসন – ৪৫৯৭টি।তিপ্রামথা প্রার্থী দিয়েছে – ২৭৩১টি আসনে।সিপিএম – ২১৫১টি আসনে।বিজেপি – ১৮৫৩টি আসনে।আইপিএফটি – ৩৫৬টি আসনে।কংগ্রেস – ৪২৫টি আসনে।সিপিআই – ৩টি আসনে।আর নির্দল – ৭৫৩ জন!
অঙ্কটা কি বলছে? ৪৫৯৭ আসনের মধ্যে মথা একাই লড়ছে ২৭৩১টি আসনে। বিজেপি লড়ছে ১৮৫৩ আসনে। অর্থাৎ জোটের ভেতরে দাদাগিরি মথারই। বিজেপি যে ছোট ভাই হয়ে লড়ছে, তা এই সংখ্যাই প্রমাণ করছে।আর বিরোধী শিবিরে সিপিএম একাই ২১৫১ আসনে।তার মানে নির্বাচনের পূর্বেই অর্ধেকের বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই বামেরা।
এবার আসা যাক, সবচেয়ে বড় টুইস্টে – ৭৫৩ জন নির্দল প্রতিদ্বন্দ্বিতায়! এরা কারা?রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নির্দলদের ৩টি উৎস থাকতে পারে।-এক,জোটের বিক্ষুব্ধরা। মথা ৪২৭৯ আসনে প্রার্থী দিলেও বিজেপি-আইপিএফটির বহু টিকিট না পাওয়া নেতা নির্দল হয়ে দাঁড়িয়েছে।দুই, বাম-কংগ্রেসের বিদ্রোহীরা।এবং তিন, স্থানীয় প্রভাবশালী যেমন হেডম্যান, চৌধুরী, সমাজপতি – যাদের নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক আছে।আর এই ৭৫৩ জনই এবার ভোট কাটুয়া ফ্যাক্টর হতে পারে বলে মনে করছে একাংশ।এই নির্দল প্রার্থিরা জোটের ভোট কাটলে লাভ হবে বামেদের, আর বাম ভোট কাটলে লাভ হবে ত্রি-দলীয় জোটের।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের জানিয়েছে ৫২টি ব্লকে ৫৮৭টি ভিসির ৪৫৯৭ আসনের মধ্যে ১৬৩০টি আসনে রয়েছে মাত্র একজন প্রার্থী। অর্থাৎ ১৬৩০ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে। যার মধ্যে মথার ১৫৪৮ এবং বিজেপির ৮২ টি আসন রয়েছে ।ভাবনার বিষয় ৪৫৯৭টি আসনের মধ্যে ১৬৩০ আসন – মানে ২৫ শতাংশের বেশি আসনেই কোনো ভোটই হবে না! এখানেই খেলা ঘুরে যাবে।কারণ, যে দল এই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার আসন বেশি পেয়েছে,সেই দলই এগিয়ে থাকবে। আর আসন সংখ্যা দেখে বোঝা যাচ্ছে, এই সুবিধা সবচেয়ে বেশি পেতে চলেছে তিপ্রা মথা।অর্থাৎ, অঙ্কের বিচারে – মথারই পাল্লা ভারী।

