নিয়ম কী বলে? সরকারি বিধানে স্পষ্ট বলা আছে— কাউন্টারে সাজিয়ে রাখা প্রতিটি মিষ্টির পাত্রে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং ডেট’ অর্থাৎ তৈরির তারিখ এবং‘এক্সপায়ারি ডেট’ অর্থাৎ মেয়াদ শেষের তারিখ উল্লেখ থাকতে হবে।

ডেস্ক রিপোর্টার , ২৭ মে।।   
       বাইরে ঝকঝকে আলো, কাঁচের শো-কেসে সাজানো লোভনীয় সব মিষ্টি। কিন্তু এই মিষ্টি যেখানে তৈরি হচ্ছে, সেই কারখানার ভেতরের দৃশ্য দেখলে আপনার চোখ কপালে উঠবে! লোহা পেটানো কারখানার চেয়েও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে আপনার সাধের মিষ্টি।বুধবার পশ্চিম জেলা স্বাস্থ্য কার্যালয়ের একটি বিশেষ দল রাজধানীর বেশ কয়েকটি নামী মিষ্টির দোকানে আচমকা  সারপ্রাইজ ভিজিট বা পরিদর্শনে বের হয়।


আর দোকানে ঢুকতেই চক্ষু চড়কগাছ আধিকারিকদের। নোংরা মেঝে, মাছি-পোকামাকড়ের উপদ্রব, আর অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে মিষ্টি সামগ্রী। এই দৃশ্য দেখে অভিযানে আসা সরকারি আধিকারিকরা রীতিমতো উষ্মা ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।


আইন ভাঙার অপরাধে সংশ্লিষ্ট মিষ্টি দোকান কর্তৃপক্ষকে হাতেনাতে ধরে তড়িঘড়ি নোটিস জারি করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। শুধু তাই নয়, আগামী শুনানির জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখে তাঁদের জেলা কার্যালয়ে তলবও করা হয়েছে।


নিয়ম কী বলে? সরকারি বিধানে স্পষ্ট বলা আছে— কাউন্টারে সাজিয়ে রাখা প্রতিটি মিষ্টির পাত্রে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং ডেট’ অর্থাৎ তৈরির তারিখ এবং‘এক্সপায়ারি ডেট’ অর্থাৎ মেয়াদ শেষের তারিখ উল্লেখ থাকতে হবে।


উৎসবের মরশুমে বা অভিযানের ভয়ে কয়েকদিন এই নিয়ম মানা হলেও, ইদানীং শহরের তথাকথিত বড় বড় মিষ্টি ব্যবসায়ীরা সেই সরকারি নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখাতে শুরু করেছে।আর এতে কোন মিষ্টি কতদিনের পুরনো, তা জানার কোনো উপায় নেই আমজনতার।
    


স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। ভোক্তাদের সরাসরি অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়মিত নজরদারির অভাব এবং হেঁয়ালিপনার সুযোগ নিয়েই এই মিষ্টি ব্যবসায়ীদের বাড়বাড়ন্ত।


দিনের পর দিন প্রশাসনের এই ঢিলেঢালা মনোভাবের কারণেই পার পেয়ে যাচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা, যার বিষময় ফল ভুগতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের। ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যকে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *