তেলিয়ামুড়া ডেস্ক, ১৩ জুন।।
         দুর্যোগ মোকাবিলার নামে শুধুই কি ফাঁকা আওয়াজ? কাজের বেলায় কি তেলিয়ামুড়া প্রশাসন কার্যত ‘ঢাল-তরোয়ালহীন নিধিরাম সর্দার’? কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের চাকমাঘাট মুসলিম বস্তি এলাকায় মাটি ধসে দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এখন উত্তাল রাজ্য। তাদের নাম জেমস জমাতিয়া, আশা হরি জমাতিয়া।
       স্থানীয়দের কথায়, শনিবার কুঞ্জমুড়া এলাকা থেকে মাটি সংগ্রহ করতে এসেছিলেন জেমস জমাতিয়া, আশা হরি জমাতিয়া এবং গাড়িচালক অমূল্য ধন জমাতিয়া। কিন্তু মাটি কাটার সময় আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বিশাল মাটির স্তূপ। মুহূর্তের মধ্যে মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় তিন যুবক।চোখের সামনে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা দেখে বুক ফেটে যায় স্থানীয়দের। প্রশাসনের ভরসায় না থেকে তাঁরাই প্রথমে খালি হাতে উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয় চালক অমূল্য ধন জমাতিয়াকে। তাঁকে জিবি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। কিন্তু বাকি দুজনকে বাঁচাতে তখন সময়ের সঙ্গে লড়াই চলছে।
      আর ঠিক এখানেই উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন।খবর পাওয়ার দীর্ঘ এক ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মহকুমা প্রশাসনের দুর্যোগ মোকাবিলা দল। কিন্তু এসে তাঁরা কী করলেন?  সেখানে বুক ফুলিয়ে ‘দুর্যোগ মোকাবিলা’র পোশাক পরে হাত গুটিয়ে স্রেফ দাঁড়িয়ে রইলেন টিমের সদস্যরা!
    অন্যদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাটির নিচ থেকে জেমস ও আশা হরিকে টেনে বের করতে ঘাম ঝরালেন দমকল কর্মী এবং TSR দ্বাদশ বাহিনীর জওয়ানরা।শেষ রক্ষা অবশ্য হয়নি। তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ২০ বছরের জেমস এবং ৩০ বছরের আশা হরি জমাতিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।অভিযোগ দুটি তরতাজা প্রাণ নিমেষেই শেষ হয়ে গেল স্রেফ প্রশাসনিক গাফিলতিতে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *